চট্টগ্রামের প্যারেড মাঠে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মুমিনুল হক চৌধুরীর জানাজায় ছাত্রশিবির-ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। গতকাল শনিবার বেলা দেড়টা থেকে সোয়া ২টার মধ্যে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
জামায়াত নেতা মুমিনুল বার্ধক্যজনিত কারণে নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত শুক্রবার রাতে মারা যান। তিনি চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) থেকে নির্বাচিত বর্তমান ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সাংসদ ড. আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভীর শ্বশুর। মুমিনুল হকের মেয়ে (নদভীর স্ত্রী) রিজিয়া রেজা চৌধুরী কেন্দ্রীয় মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য। যদিও সাংসদ নদভী জানাজায় উপস্থিত ছিলেন না।
চট্টগ্রাম কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুভাষ মল্লিক সবুজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জামায়াত নেতার জানাজার নামে শিবিরের সন্ত্রাসীরা অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে প্যারেড মাঠে তাণ্ডব চালাতে এসেছিল। চিহ্নিত শিবির ক্যাডার রায়হান, জোবায়ের ও হান্নানের নেতৃত্বে অনেকে মুখোশ পরে আসে। এর প্রতিবাদে কলেজ ছাত্রলীগ মিছিল বের করে। এ সময় তারা আমাদের মুখোমুখি অবস্থান নিলে তাদের প্রতিহত করি। এ ঘটনায় কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী ছোটন শীল ও সাফায়ের হোসেন রাজ আহত হয়েছে।’ কলেজে শিবিরের কোনো নেতাকর্মীকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না জানিয়ে সবুজ বলেন, ‘প্যারেড মাঠে জামায়াত নেতার জানাজা করতে কলেজ অধ্যক্ষের কাছে যে অনুমতি নেওয়া হয়েছিল, তা আমাদের জানানো হয়নি।’
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জামায়াত নেতার জানাজার খবরে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা উত্তেজিত হয়ে রড ও লাঠি নিয়ে প্যারেড মাঠের কাছাকাছি এসে জড়ো হন। পরে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে প্যারেড মাঠের দিকে এগোতে থাকলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। অন্যদিকে ছাত্রলীগের বিক্ষোভের খবরটি প্যারেড মাঠে ছড়িয়ে পড়লে জানাজাস্থল থেকে শিবিরের নেতাকর্মীরাও উত্তেজিত হয়ে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের দিকে এগিয়ে যান। এ সময় ছাত্রলীগ ও শিবিরের নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেন এবং মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন।
চকবাজার থানার ওসি নিজাম উদ্দিন জানান, জানাজায় শিবিরের ছেলেরাও এসেছিল। ছাত্রলীগের মিছিলটি কলেজ ক্যাম্পাস থেকে প্যারেড মাঠের দিকে আসতে চাইলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপরও দুপক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নিয়ে মারমুখী হয়ে ওঠে। পরে পুলিশ মাঝখানে অবস্থান নিয়ে দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
