চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে মো. সেলিম নামে এক ভারতীয় নাগরিকের বাংলাদেশি জাল জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরি করে এবং তার ছেলেকে জিম্মি করে তার কাছ থেকে অন্যের ভোগদখলীয় ১০ দশমিক ৬০ শতক জমি রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। গত ৭ এপ্রিল মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রারের কার্যালয়ে এই জমি রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করে একটি জালিয়াত চক্র। জাল ওই বাংলাদেশি জাতীয় পরিচয়পত্রের সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগে পাঠানো হলে এটি জাল সাব্যস্ত হয়।
অনুসন্ধানে জানা যায়, এ চক্রের মূল হোতা কামরুল আনোয়ার মিলন পেশায় একজন দলিল লেখক। তিনি উপজেলার কাটাছড়া ইউনিয়নের ইদিলপুর গ্রামের মৃত নুরুল হাদির সন্তান। কামরুল আনোয়ার মিলনের বিরুদ্ধে তার নিজ গ্রামেও প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে। মিলনের দ্বারা প্রতারিত তার আপন জ্যাঠাতো বোন নুরজাহান বেগম এই প্রতিবেদককে জানান, ২০০৮ সালে মাত্র ২৯ হাজার টাকার বিনিময়ে এক শতক জমি ক্রয়ের কথা বলে প্রতারণা করে তার পৈতৃক সব সম্পত্তি রেজিস্ট্রি করে নেন কামরুল আনোয়ার মিলন।
ভুক্তভোগী ভারতীয় নাগরিক মো. সেলিম জানান, গত ৭ এপ্রিল মিলন ও স্বপন গং তার ছেলে শেখ ইমরানকে স্বপনের বাসায় আটকে রেখে তাকে জোরপূর্বক জোরারগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে জমির দলিলে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কামরুল আনোয়ার মিলন বলেন, জমির দাতা মো. সেলিম ও তার সন্তানকে জিম্মি করে রেজিস্ট্রি করে নেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। তিনি স্বেচ্ছায় সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিলে স্বাক্ষর করেছেন। ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘কোনো জাল জাতীয় পরিচয়পত্র আমি তৈরি করিনি। দাতার জাতীয় পরিচয়পত্র তিনি নিজেই সরবরাহ করেছেন।’ এ ব্যাপারে সাব-রেজিস্ট্রার দেলোয়ার হোসেন খন্দকার বলেন, কেউ যদি জাল জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে কোনো দলিল রেজিস্ট্রি সম্পাদন করে তাহলে তা বৈধ হবে না। এ ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীরা আদালতের শরণাপন্ন হলে এই দলিল বাতিল হয়ে যাবে।
