বিআরটিএকে দেশ প্রেমিক হতে বললেন হাইকোর্ট

আপডেট : ২৫ জুন ২০১৯, ১২:০৩ এএম

সড়কে বিশৃঙ্খলা ও মৃত্যুর মিছিলের প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের ব্যর্থতায় উষ্মা প্রকাশ করেছে হাইকোর্ট। পুলিশের নাকের ডগায় কীভাবে সনদ ও ফিটনেসবিহীন গাড়ি চলে এবং মেয়াদহীন সনদে চালকেরা কীভাবে গাড়ি চালায় এই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে আদালত।

ফিটনেসবিহীন ও অনিবন্ধিত যান এবং সনদহীন চালকদের বিষয়ে হাইকোর্টের  আদেশ বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদনের ওপর শুনানিকালে সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের বেঞ্চ থেকে এসব বক্তব্য আসে। 

পাশাপাশি বিআরটিএকে (বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ) তার দায়িত্বের বিষয়টি স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশ প্রেমিক হিসেবে আরও দায়িত্বশীল হওয়ার কথা বলেছে হাইকোর্ট।

আদালত এক আদেশে গাড়ির নিবন্ধন আছে, কিন্তু ফিটনেস নেই- এমন গাড়ি ও তার মালিকদের নাম-ঠিকানাসহ একটি প্রতিবেদন এবং গাড়ি চালানোর সনদ আছে কিন্তু নবায়ন করেনি এমন গাড়ি চালকের তালিকা চেয়েছে। পাশাপাশি এসব গাড়ি ও চালকের বিরুদ্ধে কি ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা এক মাসের মধ্যে জানাতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আগামী ২৩ জুলাই এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ও আদেশ হবে।

রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন   মানিক। বিআরটিএ’র পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মঈন ফিরোজী।

হাইকোর্টের  তলবে বিআরটিএ’র পরিচালক (রোড সেফটি) শেখ মোহাম্মদ মাহবুব-ই-রব্বানী আদালতে হাজির হন।

শুনানিতে তিনি আদালতকে জানান, ফিটনেস সনদের মেয়াদ শেষ হলেও ঢাকার বাইরে সারা দেশে মালিকেরা সনদ নবায়ন করেনি এমন ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৩৬৯টি গাড়ি রয়েছে। আর ঢাকায় এ সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৩০৮টি। তবে, ফিটনেসবিহীন গাড়ি ও সনদহীন চালকদের বিষয়ে সঠিক তথ্য  দিতে পারেননি বিআরটিএ’র এ কর্মকর্তা।

শুনানিকালে হাইকোর্ট বিআরটিএ’র কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘দেশকে ভালোবাসুন, দেশের মানুষকে ভালোবাসুন। বিআরটিএ কি করে? অফিসে বসে চা খাবেন, বসে বসে বেতন নেবেন, দায়িত্ব নেই বলবেন- এটাতো হয় না।’

একটা মানুষের মধ্যে যদি দুর্নীতির মনোভাব থাকে তাহলে তার বিবেক জাগ্রত হয় না বলে মন্তব্য করেন আদালত। 

হাইকোর্ট আরও বলেন, ‘বিআরটিএকে কেন আদালতে আসতে হলো? আদালতকে কেন এ বিষয়ে আদেশ দিতে হবে? সরকার বেতন ভাতা বাড়িয়েছে। আপনাদের দায়িত্ব তো এইগুলো দেখা। প্রতিদিন মানুষ মারা যাচ্ছে। বিআরটিএ ছাড়াও পুলিশ আছে, পুলিশের নাকের ডগার ওপর এসব গাড়ি (আনফিট ও নিবন্ধনহীন) চলে কীভাবে?’

আদালত বলেন, ‘দেশে যদি সভ্যতা আনতে চাই তাহলে রুল অব ল মানতে হবে। আমেরিকাতে যান সেখানে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘন করলে পুলিশ মিনিস্টারকে পর্যন্ত জরিমানা করে দেয়। আমাদের সবাইকে রুল অব ল মেনে চলতে হবে।’

ফিটনেস ও সনদবিহীন গাড়ি নিয়ে একটি ইংরেজি জাতীয় দৈনিকের প্রকাশিত প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ২৭ মার্চ স্বপ্রণোদিত হয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট। রুলে ফিটনেস ও সনদবিহীন গাড়ি  ও ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া গাড়ি  চালানোর বিষয়ে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়।

এছাড়া সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদের আলোকে মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার বাস্তবায়নে মোটর ভেহিক্যাল অধ্যাদেশ ১৯৮৩ এর বিধানগুলো সঠিকভাবে পালনের জন্য কেন নির্দেশনা দেওয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চায় হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বিআরটিএ’র কর্মকর্তাকে তলব করেছিল আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত