৩০ বছর পর সচল হচ্ছে সগিরা হত্যা মামলার বিচার

আপডেট : ২৭ জুন ২০১৯, ০২:৪৩ এএম

১৯৮৯ সালের জুলাই মাসে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে ছিনতাইয়ের সময় খুন হওয়া সগিরা মোর্শেদ সালাম হত্যা মামলার ওপর স্থগিতাদেশ তুলে নিয়েছে হাইকোর্ট। মামলাটিতে অধিকতর তদন্তের আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদন খারিজ করে দিয়ে গতকাল বুধবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিুজর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেয়। একই সঙ্গে ৬০ দিনের মধ্যে এ মামলার অধিকতর তদন্ত শেষ করতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে নির্দেশের পাশাপাশি ৯০ দিনের মধ্যে মামলার বিচারকাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

দীর্ঘ সময়েও এ হত্যা মামলার বিচারকাজ শেষ না হওয়ায় গতকাল হাইকোর্ট বলে, ‘এত দিনেও এ মামলার ভিকটিমের পরিবারকে রাষ্ট্র কোনো বিচার দিতে পারেনি। ২৮ বছরে ভিকটিমকে আমরা কী দিতে পারলাম! সামগ্রিকভাবে বিচার বিভাগসহ এটি আমাদের সবার ব্যর্থতা।’

গতকাল হাইকোর্টের এই বেঞ্চ এক আদেশে ২০১০ সাল পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আদেশে স্থগিত থাকা ফৌজদারি রিভিশন মামলার তালিকা প্রস্তুত করে প্রধান বিচারপতির কাছে আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রারকে নির্দেশ দিয়েছে। এছাড়া ফৌজদারি রিভিশন ও ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ (ক) ধারায় মামলা বাতিলের আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকলে এবং প্রধান বিচারপতি এই বেঞ্চে পাঠালে তা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে বলে উল্লেখ করে আদালত। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ইউসুফ হোসেন হুমায়ুন। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোতাহার হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ফরহাদ আহমেদ। 

১৯৮৯ সালের ২৫ জুলাই বিকেলে ভিকারুননিসা নূন স্কুলের সামনে ছিনতাইকারীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন সগিরা মোর্শেদ সালাম। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান তিনি। ওইদিনই রমনা থানায় মামলা দায়ের করেন তার স্বামী সালাম চৌধুরী। প্রত্যক্ষদর্শীরা দুজনকে শনাক্ত করলেও অজ্ঞাত কারণে মিন্টু ওরফে মন্টু ওরফে মরণ নামে একজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ১৯৯১ সালের ১৭ জানুয়ারি মন্টুর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেয় ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালত। এরপর সাতজনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়।

সাক্ষ্য গ্রহণকালে সাক্ষীদের বক্তব্যে বলা হয়, এ ঘটনায় তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মাহমুদুল হাসানের নিকটাত্মীয় মারুফ রেজাকে গ্রেপ্তার করা হলেও তার নাম বাদ দিয়েই অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে। মারুফ রেজার নাম আসায় ১৯৯১ সালের ২৩ মে মামলায় অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেয় বিচারিক আদালত। তবে ওই আবেদনের বিরুদ্ধে মারুফ রেজার করা রিভিশন আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ২ জুলাই হাইকোর্ট মামলাটির অধিকতর তদন্তের আদেশ ও বিচারকাজের ওপর ছয় মাসের স্থগিতাদেশের পাশাপাশি অধিকতর তদন্তের আদেশ কেন বাতিল হবে না এ মর্মে রুল জারি করে। পরের বছর আরেকটি আদেশে রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত মামলার বিচারকাজ স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দেয় হাইকোর্ট। 

দীর্ঘদিন স্থগিত থাকার পর মামলার সবশেষ তদন্ত কর্মকর্তা সম্প্রতি বিষয়টি অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের নজরে আনলে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রপক্ষ। এরপর বিষয়টি বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের বেঞ্চে শুনানির জন্য উপস্থাপন করা হয়। শুনানি নিয়ে গতকাল হাইকোর্ট মামলার বিচারকাজ স্থগিত করে জারি করা রুল খারিজ করে রায় দিল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত