রাঙ্গামাটি জেলার বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম এলাকায় ম্যালেরিয়া রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলার দুর্গম সাজেক ও তার আশপাশের কয়েকটি এলাকায় এ রোগের প্রাদুর্ভাব লক্ষ করা যাচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, শুধু চলতি মাসেই ১৩১ জনের দেহে ম্যালেরিয়া রোগের জীবাণু পাওয়া গেছে। গত মে মাসে পাওয়া যায় মাত্র ২৮ জনের দেহে। গত বছরে বাঘাইছড়িতে ম্যালেরিয়া রোগী ছিল ৯৩ জন।
সাজেক ইউনিয়নের ভূঁইয়াছড়ি, উজেংছড়ি, ক্যজেইছড়ি, মিতিঙ্গাছড়ি, রুইলুই, মাচালংসহ কয়েকটি গ্রামে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ বেশি। সাজেক ইউনিয়নের পরিষদের সদস্য হীরানন্দ ত্রিপুরা লেন্দ জানান, প্রতিদিনই কয়েকজন করে ম্যালেরিয়া রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। তাদের স্থানীয় এনজিও ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে থেকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুয়েন খীসা জানান, উপজেলার সাজেক এলাকায় ম্যালেরিয়া রোগের আক্রান্ত রোগীর দেখা গেলেও এটা নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত এমন কোনো রোগীর শরীরে মারাত্মক ম্যালেরিয়া (সিভিয়ার) জীবাণু পাওয়া যায়নি। সবাই সাধারণ ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। নিয়মিত ওষুধ সেবনেই তারা সুস্থ হয়ে উঠবেন। এ রোগের প্রকোপ ঠেকাতে মশারি খাটিয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দেন তিনি।
তিনি আরও জানান, বর্ষাকালে ম্যালেরিয়ার জীবাণু বহনকারী মশার উপদ্রব বাড়ে। ম্যালেরিয়া নির্ণয় ও নির্মূলের জন্য সাজেকের দুর্গম অঞ্চলে তিনটি মেডিকেল টিম পাঠানো হয়েছে। প্রসঙ্গত, মালেরিয়াপ্রবণ এলাকা হিসেবে এক সময় পরিচিত ছিল পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলা। সরকারি-বেসরকারি সংস্থার উদ্যোগে চিকিৎসা ও সচেতনতা বাড়ানোর মাধ্যমে ম্যালেরিয়ার প্রাদুর্ভাব অনেকাংশে কমানো সম্ভব হয়েছে।
