টানা বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুনামগঞ্জে সুরমা নদীর পানি বেড়েছে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৯টায় সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে বিপদসীমার ৮৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হয়। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৪১৫ মিলিমিটার, যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। সুরমা ছাড়া যাদুকাটা, কংশ, চলতি নদীতেও পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।
এদিকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সুনামগঞ্জ শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় সুরমা নদী উপচে শহরে প্রবেশ করেছে পানি। শহরের ষোলঘর, কাজির পয়েন্ট, আরপিন নগর, বিলপার, নতুনপাড়া, তেঘরিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় সুরমা নদীর পানি প্রবেশ করেছে। এসব এলাকার অনেক রাস্তায় পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। সাধারণ মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
শহরের ষোলঘর এলাকার তোফায়েল আহমদ বলেন, শহরের অধিকাংশ ড্রেনেজ ব্যবস্থা অকেজো হয়ে পড়েছে। ময়লা, আবর্জনায় ভরে গেছে ড্রেন। ফলে সামান্য বৃষ্টি অথবা নদীর পানি বাড়লেই শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পানি নিষ্কাশনের কোনো ব্যবস্থা নেই।
কাজির পয়েন্ট এলাকার আতিকুল ইসলাম বলেন, ‘সড়কের পানি ঘরের বাথরুম, রান্নাঘরে ঢুকে গেছে। বাচ্চাদের নিয়ে বিপাকে আছি।’
জেলা শিশুবিষয়ক কর্মকর্তা বাদল বর্মণ বলেন, ‘জামতলা সড়কে জলাবদ্ধতার কারণে অফিসে পানি ঢুকে গেছে। এখন অফিসের ফার্নিচার সরাতে হচ্ছে।’
সুনামগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ইয়াসিনুর রশিদ বলেন, সুরমা নদীর পানি বাড়লে সুনামগঞ্জ শহরে পানি প্রবেশ স্বাভাবিক বিষয়। এ পানি দিনের ভেতরেই হাওরে চলে যায়। কিন্তু এ বছর ড্রেনে ময়লা জমে যাওয়ায় ও অপরিকল্পিত বাসাবাড়ি নির্মাণের কারণে সড়কের পানি নামতে পারছে না। ফলে সাধারণ মানুষ কিছুটা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী আবু বক্কর ছিদ্দীক ভূইয়া বলেন, হাওর অধ্যুষিত সুনামগঞ্জে বর্ষাকালে প্রতি বছরই প্রচুর বৃষ্টিপাত হয়। এ সময় নদ-নদীতে পানি বাড়ে। হাওরের জীববৈচিত্র্যের কারণেও পানি বৃদ্ধি প্রয়োজন। সুরমা নদীর ষোলঘর পয়েন্টে পানি বিপদসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে ৪১৫ মিলিমিটার, যা এ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড।
তিনি বলেন, পৌরসভার ড্রেনের বেহাল অবস্থার কারণে প্রবল বৃষ্টিপাতের সময় পানি নিষ্কাশন ব্যাহত হয়। তা ছাড়া পানি নিষ্কাশনের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে শহরে পানি আরও বাড়তে পারে।
