এক বহুজাতিক সংস্থার দপ্তর। চলছে মাঝরাতের ক্লায়েন্ট কল। ফোনের ওপারে থাকা ক্লায়েন্ট বোঝার আগেই অন্য কেউ বুঝে নিচ্ছে আপনি ক্লান্ত, কখনো নার্ভাস, আবার কখনো ক্লায়েন্টের সব প্রশ্নের উত্তর দিতে অপারগ। কে এই তৃতীয় ব্যক্তি? কীভাবে জানছে আপনাদের দুজনের মধ্যে হওয়া কথোপকথন? সবই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের (এআই) খেল! যে মুহূর্তে ঝিমিয়ে পড়ছেন আপনি, অমনি স্ক্রিনে ভেসে ওঠা কফি কাপের ছবি আপনাকে বুঝিয়ে দিল অবিলম্বে চাঙা হয়ে উঠতে হবে।
আপনার সংস্থায় আপনার কাজের তদারকির লোকের অভাব নেই, কিন্তু দিনের শেষে আপনার মূল্যায়ন কোনো কোট প্যান্ট-টাইয়ে মোড়া খিটখিটে বস করছে না। ওই কাজটি বরং করে দিচ্ছে এআই। কাজের ক্ষেত্রে অটোমেশন বা স্বয়ংক্রিয়তার লক্ষ্য ছিল মূলত দক্ষতা বাড়ানো। কিন্তু পরিবর্তিত সময়ে পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে আপনি আদৌ নিজের কাজে দক্ষ কিনা এবং কতটা দক্ষ, তা বিচার করছে যন্ত্র। অ্যামাজনের মতো বহুজাতিক সংস্থাতে কর্মীদের মূল্যায়ন করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং সেই বিচারের ভিত্তিতেই সংস্থার ঠিক করে দেওয়া লক্ষ্য পূরণ করতে না পারলেই হয় কর্মী ছাঁটাই। শুধু অ্যামাজন নয়, কগিটো, মেটলাইফ, আইবিএমের মতো সংস্থা এভাবেই কর্মীদের মূল্যায়ন করছে।
