দরিদ্র ও বৃদ্ধ বাবা আদম আলী গাজী ও মা কামরুন নাহারের দুঃখ ছিল তাদের কোনো মেয়ে নেই। বড় আশা করে বিয়ে করিয়েছিলেন আল আমিনকে। পাশের গ্রামের সাবিনা ইয়াসমিনকে বিয়ে করিয়ে ঘরে কেবল বউ আনেননি, এনেছিলেন একটি মেয়েসন্তান। এতে খুব সুখ এসেছিল, আলো এসেছিল আদম আলী গাজী ও কামরুন নাহারদের ঘরে। কিন্তু গত শুক্রবারের বজ্রপাত আদম আলী গাজী ও কামরুন নাহারদের ঘরজুড়ে আসা সব আলো নিভিয়ে দিয়ে গেছে।
ওই দিন বেলা ১১টার দিকে আদম আলীর বাড়ির টিনের চালে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান তার বড় ছেলে আল আমিন (২২), আল আমিনের নববধূ সাবিনা ইয়াসমিন (১৮) ও ছোট ছেলে রবিউল ইসলাম (১৯)। আদম আলীকে মারাত্মক আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আদম আলীর চেয়ে বেশি আহত হন তার স্ত্রী কামরুন নাহার। তাদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হলেও বিকেলে ছাড়া পান।
বাড়ি ফিরে কামরুন নাহার জানান, কয়েক দিন যাবৎ প্রচ- গরম পড়ার কারণে অতিষ্ঠ ছিল সবাই। শুক্রবার সকাল থেকে আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন থাকায় রোদ ওঠেনি। এতে আদম আলী গাজী ও কামরুন নাহারদের মধ্যেও অনেকটা স্বস্তি দেখা দিয়েছিল। সকাল ১০টার দিকে প্রথমে হালকা বৃষ্টি শুরু হয়। বউ-ছেলেরা ঘরেই ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে দূরে কোথাও বজ্রপাত শুরু হয়। কিন্তু হঠাৎ তীব্র আলোর ঝলকানি দিয়ে বিকট আওয়াজে নিজেদের বাড়ির টিনের চালে নেমে আসে বজ্র। একটা বজ্রপাত আর তার আলো নিভিয়ে দিয়ে গেল একটা সংসার। ওই দিন সন্ধ্যায় তিনজনের মরদেহ দাফন করা হয়।
