রোহিঙ্গা সংকট

জাতিসংঘের পদ্ধতিগত ব্যর্থতা তুলে ধরল বাংলাদেশ

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৯, ০৪:০৮ এএম

রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের পদ্ধতিগত ব্যর্থতার কথা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। নিউইয়র্কে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সম্প্রতি আয়োজিত প্ল্যানারি আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে তিনি ব্যর্থতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

গতকাল শনিবার জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গুয়াতেমালার সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী গার্ট রোজেনথাল প্রণীত ‘মিয়ানমারে ২০১০ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত জাতিসংঘের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে স্বাধীন তদন্ত’ শীর্ষক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে মাসুদ বিন মোমেন জাতিসংঘের পদ্ধতিগত ব্যর্থতা তুলে ধরেন।

মাসুদ বিন মোমেন বলেন, রোহিঙ্গাদের ওপর যে বীভৎস সহিংসতা হয়েছে তা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তথ্যপ্রযুক্তিগত সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকার পরও পূর্বসতর্কতা নিরূপণের মতো বিষয়ে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়। কিন্তু মিয়ানমারে নিযুক্ত জাতিসংঘের প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠান পূর্বসতর্কতা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

রোহিঙ্গা সমস্যাটি ছিল ব্যাপক ও গভীর, এটি হঠাৎ করেই সৃষ্টি হয়নি। এখানে পূর্বসতর্কতা চিহ্ন পাওয়ার কোনো ঘাটতি থাকার কথা নয়, কিন্তু সময়োপযোগী পদক্ষেপের ঘাটতি ছিল। মাসুদ বিন মোমেনের মতে, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে কেন এবং কোন কোন ক্ষেত্রে জাতিসংঘব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে তা রোজেনথালের সাম্প্রতিক রিপোর্টে স্পষ্টভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।’

রোহিঙ্গাদের মানবিক আশ্রয় ও সহযোগিতা দিতে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের উদারতার কথা উল্লেখ করে স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, ‘ভয়াবহ নির্যাতন ও সহিংসতা থেকে বাঁচতে রোহিঙ্গাদের পালিয়ে আসার দৃশ্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যখন অসহায়ের মতো দেখছে, তখন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এগিয়ে এসেছেন।’

এজাতীয় বর্বরোচিত ঘটনার দায়দায়িত্ব নিরূপণবিষয়ক আরটুপিরর স্তম্ভ-২ ও স্তম্ভ-৩-এর প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়ে তা বাস্তবায়নের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান স্থায়ী প্রতিনিধি।

‘সুরক্ষার দায়দায়িত্ব (আরটুপি) এবং গণহত্যা প্রতিরোধ, যুদ্ধাপরাধ, জাতিগত নির্মূল ও মানবতার বিরূদ্ধে অপরাধ’ ৭৩তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনুষ্ঠানিক এজেন্ডা। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি মারিয়া ফার্নান্দে এস্পিনোসা গার্সেজ ও জাতিসংঘ মহাসচিবের শেফ দ্য ক্যাবিনেট (জাতিসংঘ মহাসচিবের পক্ষে) এ সভার উদ্বোধনীতে বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া ৭০টিরও বেশি সদস্য দেশের প্রতিনিধি এই প্ল্যানারি আলোচনায় বক্তব্য দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত