চার দফা দাবিতে অনশনরত ছাত্রলীগের পদবঞ্চিতদের নয়জন অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার মধ্যে দুজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদিকে, আমরণ অনশনের ৫৪ ঘণ্টা পার হলেও এখন পর্যন্ত কেউ যোগাযোগ করেনি বলে আন্দোলনকারীরা জানায়।
রোববার দুপুরে অনশনস্থল গিয়ে দেখা যায়, অসুস্থদের স্যালাইন দেয়া হয়েছে। সন্ধ্যায় অনশনের ৫৪ ঘণ্টা ফেরিয়ে গেলেও কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানীসহ ছাত্রলীগ বা আওয়ামী লীগের কোন পর্যায় থেকে তাদের সাথে যোগাযোগ করা হয়নি বলে জানান আন্দোলনকারীরা।
গত কমিটির কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক এবং আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র রাকিব হোসেন বলেন, আমরা দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাব। এখনো আওয়ামী লীগ কিংবা ছাত্রলীগের শীর্ষ পর্যায়ের কেউ যোগাযোগ করেনি। সবকিছুর বিনিময়ে আমরা প্রাণের ছাত্রলীগকে কলঙ্কমুক্ত করতে চাই।
অনশনরতদের মধ্যে যারা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন- গত কমিটির সমাজসেবা সম্পাদক রানা হামিদ, উপ-কর্মসূচি ও পরিকল্পনা সম্পাদক মুরাদ হায়দার টিপু, আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-সম্পাদক ইমদাদ হোসেন সোহাগ, উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ইফতেখার আহমেদ চৌধুরী সজিব, ত্রাণ ও দুর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক কৃষ্ণ মজুমদার, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় বিষয়ক সম্পাদক আনন্দ সাহা পার্থ, উপ প্রচার সম্পাদক খন্দকার রবিউল ইসলাম রবি, সহ-সম্পাদক এস এম মামুন ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক শেখ আব্দুল্লাহ। এর মধ্যে শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে মুরাদ হায়দার টিপু, সোহাগ ও আব্দুল্লাহর।
এ বিষয়ে কথা বলতে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন ও গোলাম রাব্বানীকে ফোন দেয়া হলেও তারা রিসিভ করেন নি।
আন্দোলনকারীদের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর সাথে সাক্ষাৎ, সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির ১৯ টি পদ শূন্য করা হয়েছে তাদের নামপদসহ প্রকাশ করা, বিতর্কিতদের অব্যহতি দিয়ে পদবঞ্চিতদের মধ্য থেকে যোগ্যদের পদায়ন এবং মধুর ক্যান্টিন ও টিএসসিতে হামলায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিত করা। এ দাবিতে গত ২৬ মে থেকে অবস্থান শুরু করেন তারা। দীর্ঘ ১ মাস ৩ দিনের অবস্থান শেষে আমরণ অনশনের কঠোম কর্মসূচিতে যান তারা।
