পটুয়াখালীর কলাপাড়ার লালুয়া ইউনিয়নের চান্দুপাড়ায় পল্লীবিদ্যুতের সংযোগ দেওয়ার নামে টাকা তোলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। নতুন সংযোগ প্রত্যাশীদের কাছ থেকে পাঁচশ থেকে দেড় হাজার টাকা করে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে পটুয়াখালী প্রেস ক্লাবে এসে প্রতিকার চেয়ে গতকাল সোমবার সকালে লিখিত অভিযোগ দিয়ে গেছেন ভুক্তভোগী কয়েকজন গ্রামবাসী।
লিখিত অভিযোগে ওই এলাকার ইউপি মেম্বার মাসুদ হাওলাদারের নির্দেশে একই গ্রামের রুহুল আমিন প্যাদা টাকা আদায় করছেন বলে জানানো হয়। চান্দুপাড়ার বেল্লাল শরীফ, স্বপন হাওলাদার, জাকির পল্লান, হিমু বিশ্বাস, লাবনী বিশ্বাস, সোহরাব আকন, প্রতিবন্ধী ফারুক, বশির হাওলাদার, সুমন, আমির হোসেন এসে এ অভিযোগ দেন।
তাদের অভিযোগ, বর্তমানে বিষয়টি ওপেন-সিক্রেট হয়ে গেছে। গ্রামের সরল লোকজনের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা তোলা হয়েছে।
অভিযুক্ত রুহুল আমিন প্যাদা বলেন, ‘অফিসারে কইছে মেম্বারের কাছে দিতে। আমি গত দুই দিনে (শনি ও রবিবার) সাত-আট হাজার টাহা উডাইছি। রবিবার সন্ধ্যায় মেম্বারের কাছে দিয়া দিছি। হেরা কইলে আইজ ফেরত দিয়া দিমু।’ কোন অফিসার টাকা তুলতে বলেছেন জিজ্ঞেস করলে তিনি অফিসারের নাম জানাতে পারেননি।
লালুয়া ইউপি মেম্বার মাসুদ হাওলাদারের কাছে টাকা তোলার বিষয় জানতে চাইলে পাল্টা প্রশ্ন করেন, ‘কেডা কইছে।’ তিনি এক ঘণ্টা পরে ফোন করবেন বলে সংযোগ কেটে দেন। পরে তার নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির পরিচালক ইউসুফ আলী জানান, কেউ নতুন সংযোগ দেওয়ার নামে চাঁদাবাজি করলে দায়-দায়িত্ব তার। প্রমাণ মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কলাপাড়া পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম প্রকৌশলী শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘দালাল কিংবা কাউকে টাকা না দিতে মাইকিং, পোস্টারিং করা হয়েছে। এরপরও লোকজন সচেতন হচ্ছে না কেন বুঝতে পারছি না।’ তিনি পরামর্শ দেন, যদি কেউ বিদ্যুতের নামে টাকা তোলে তবে তাকে আটক করে পুলিশ এবং বিদ্যুৎ অফিসে জানাবেন।
