ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী

১০ বছরে বিশ্বের ২৫তম অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০১৯, ১২:৫৩ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামী ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বের ২৫তম বড় অর্থনীতির দেশ হবে বাংলাদেশ। উন্নয়নের এই যাত্রাপথে সব ধরনের বাধা দূর করে ভারত, জাপান, চীনসহ সবার সঙ্গে সুসম্পর্ক রেখে চলবে বাংলাদেশ। এক্ষেত্রে কোনো দূরত্ব বা সীমাবদ্ধতা থাকলে তা দূর করা হবে। এ জন্যই বাংলাদেশ-চীন-ভারত ইকোনমিক কো-অপারেশন (বিসিআইএম-ইসি) এবং বেল্ট রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) ও ইন্দো-প্যাসিফিক চুক্তিতে থাকতে আগ্রহী ঢাকা।

গতকাল চীনের দালিয়ান সিটিতে চলমান ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। সরকারের সংবাদ সংস্থা বাসস এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা টেকসই বিশ্ব গড়ে তুলতে এবং ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী অথবা অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতির মূল উদ্বেগ নিরসনের লক্ষ্যে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা মাঝেমধ্যে শুধু কয়েকটি বৃহৎ অর্থনীতির সক্ষমতা অথবা তাদের প্রয়োজনের আঙ্গিকেই সবকিছু দেখি। কিন্তু টেকসই বিশ্বের জন্য আমাদের অবশ্যই ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠীসমূহের অথবা অপেক্ষাকৃত দুর্বল অর্থনীতিগুলোর মূল উদ্বেগ নিরসনের উপায়ও বের করতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার পাঁচ দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আমাকে বলছে যে, ক্ষুদ্র জনগোষ্ঠী ও দুর্বল অর্থনীতিকে মাথায় রেখেই ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর উত্থাপন করা পাঁচটি প্রস্তাবের মধ্যে রয়েছে, দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক শান্তি-সম্প্রীতি ও স্থিতিশীলতার পরিবেশ সৃষ্টি, টেকসই উন্নয়নের সব দিকে দৃষ্টি দেওয়া, দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থে বিশ্বাস ও শ্রদ্ধার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তোলা, সবার জন্য সম্পদ সৃষ্টির লক্ষ্যে সার্বিক উন্নয়ন করা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়Ñ সুষ্ঠু প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, ১৯৯৬ সালে যখন তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন ভারতের সঙ্গে গঙ্গা নদীর পানি বণ্টন করা ছিল বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং ইস্যু। তিনি বলেন, ‘আমরা পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে মিয়ানমার ও ভারতের সঙ্গে আমাদের সমুদ্রসীমা নির্ধারণ করেছি এবং এখন বাংলাদেশ ও ভারত আন্তঃসীমান্ত নৌপথ উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করছে।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তিনি সবসময় বিশ্বাস করেন যে, আয়তনের দিক দিয়ে ভারতের চেয়ে অনেক ছোট হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়ন ও যোগাযোগের মাধ্যমে এর ভূখ- ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে।

তিনি বলেন, ‘আমরা একটি নীতিভিত্তিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই। ভূরাজনীতি সবসময়েই জীবনের একটি অংশ। তবে আমাদের সতর্কতার সঙ্গে ইস্যুগুলোকে মূল্যায়ন করে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আমরা স্বল্প সময়ের অর্জনের জন্য দীর্ঘদিনের স্বার্থকে বিসর্জন দিতে পারি না। শেখ হাসিনা বলেন, সব দেশের মধ্যে অভিন্ন সমৃদ্ধি নিশ্চিতে এখনো প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক বিশ্বের সবচেয়ে গতিশীল অঞ্চল বলে ব্যাপকভাবে স্বীকৃত। একইভাবে, বঙ্গোপসাগর একটি উদীয়মান ও সমৃদ্ধ অঞ্চল। এই অঞ্চলে ১৫০ কোটি লোকের বাস। তিনি বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের আশপাশে বসবাসকারী মানুষের উন্নয়নের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলটিকে বাণিজ্য ও নিরাপত্তা ইস্যু হিসেবে দেখার প্রবণতা রয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত