গাজীপুরে সুতার কারখানায় আগুন, ৬ জনের লাশ উদ্ধার

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ০৩:৩২ এএম

গাজীপুরের শ্রীপুরে সুতার কারখানা অটো স্পিনিং মিলে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় গতকাল বুধবার পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ছয়জনে। গত মঙ্গলবার দুপুরে লাগা এই আগুন ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট ১১ ঘণ্টার চেষ্টায় ওইদিনই মধ্যরাতে নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে গতকাল সকাল থেকে মরদেহ শনাক্ত করে তা স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের কাজ শুরু হয়। এ ঘটনায় ছয় সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে জানান, গত মঙ্গলবার বেলা ২টায় শ্রীপুর উপজেলার নয়নপুর এলাকার অটো স্পিনিং মিলের তুলার গুদামে আগুন লাগে। প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের পাঁচটি ইউনিট কাজ করে। পরে আরও কয়েকটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়। ফায়ার সার্ভিসের মোট ১৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসার পর গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছয়জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরা হলেন শ্রীপুরের কচুয়া গ্রামের মোহাম্মদ জয়নালের ছেলে এসি প্ল্যান বিভাগের আনোয়ার হোসেন (২৮), ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের আলাউদ্দিনের ছেলে নিরাপত্তাকর্মী রাসেল মিয়া (৪৫), গাজীপুর সদর উপজেলার হাসেন আলীর ছেলে কোয়ালিটি বিভাগের শাহজালাল (২৬), গাজীপুরের কালিয়াকৈরের ভান্নারা গ্রামের শামসুল হকের ছেলে সিনিয়র উৎপাদন কর্মকর্তা সেলিম কবীর (৪২), ময়মনসিংহের আবু রায়হান ও পাবনার মোহাম্মদ সুজন। রায়হান ও সুজন কারখানার এসি প্ল্যান্টে কাজ করতেন। নিহতদের মধ্যে শাহজালালের পুরো শরীর পুড়ে যায়। তার মরদেহের পাশে পড়ে থাকা মোটরসাইকেলের চাবি ও অন্যান্য আলামত দেখে স্বজনেরা লাশ শনাক্ত করে।

শ্রীপুর থানার ওসি লিয়াকত আলী দেশ রূপান্তরকে জানান, নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তাকর্মী রাসেল মিয়া ও শ্রমিক আনোয়ার হোসেনের লাশ অবিকৃত থাকায় তাদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। অপর চার জনের লাশ সম্পূর্ণ পুড়ে যাওয়ায় তাদের মরদেহের ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা রাখা হবে। তবে ওই চারজনের লাশ যারা দাবি করছেন বুধবার সন্ধ্যায় তাদের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

কারখানার মহাব্যবস্থাপক (এডমিন) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘কারখানায় তিন শিফটে প্রায় ১৫শ জন শ্রমিক কর্মরত ছিল। মঙ্গলবার ‘বি’ শিফটে প্রায় সাড়ে চারশ’ শ্রমিক কাজ করছিল। দুপুর আড়াইটার দিকে কারখানার তুলার গুদামে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত তা পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে।’

গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান বলেন, ‘শ্রীপুর ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি এবং ভালুকা ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিটের কর্মীরা গিয়ে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আশপাশের ১৮টি ফায়ার সার্ভিসের ১০২ জন সদস্য ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাজ্জাদ হোসেনের নেতৃত্বে আগুন নেভাতে কাজে যোগ দেয়। পরে মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।’

তদন্ত কমিটি গঠন : অটো স্পিনিং লিমিটেডে অগ্নিকা-ের ঘটনায় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেকে প্রধান করে ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেনÑ পরিচালক শিল্প পুলিশ গাজীপুরের প্রতিনিধি (উপপরিচালক পদমর্যাদার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জেলা পুলিশ, শ্রীপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, গাজীপুরের কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের উপমহাপরিদর্শক এবং গাজীপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক। তদন্ত কমিটি আগুন লাগার কারণ অনুসন্ধান, দায়ীদের চিহ্নিত, ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ এবং এ ধরনের  ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় জানিয়ে সুপারিশ জমা দেবে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রত্যেক নিহতের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত