পুলিশের জালে ধরা পড়ল পুলিশ

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ০৬:২৮ পিএম

বগুড়ায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগে তদবিরের অভিযোগে দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া নিয়োগের নামে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ।

স্ট্যান্ড রিলিজ হওয়া দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন বগুড়া জেলা গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপসহকারি পরিদর্শক (এএসআই) শওকত আলম ও পুলিশ লাইনসের রিজার্ভ পুলিশের এএসআই ফারুক হোসেন। তাদের চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এছাড়া প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পিঞ্জিরা আক্তার প্রিয়া (৪৬) নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিরইল গ্রামের মৃত পিয়ার উদ্দিনের মেয়ে।

বগুড়া জেলা পুলিশের একটি সূত্র জানায়, গত ৩ জুলাই বগুড়ায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগকে কেন্দ্র করে পুলিশের হেডকোয়ার্টার থেকে পুলিশ সদস্যদের প্রতি নজরদারি করা হয়। সকল পুলিশ সদস্যকে নজরদারির ভিত্তিতে মোবাইলে আড়ি পেতে (ট্রাকিং) পুলিশের ওই দুই কর্মকর্তাকে তদবিরে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে।

এর প্রেক্ষিতে ৪ জুলাই হেডকোয়ার্টার থেকে ওই দুই কর্মকর্তাকে বগুড়া থেকে তাৎক্ষণিক বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়। তাদের দু’জনকে চট্টগ্রাম রেঞ্জে সংযুক্ত করে সেখানে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ওই দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে স্ট্যান্ড রিলিজের বিষয়টি নিশ্চিত করে বগুড়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আরিফুর রহমান মণ্ডল বলেন, তাদের বদলির নির্দেশ পাওয়া গেছে। তবে কি কারণে তাদের বদলি করা হয়েছে তিনি সেটি জানা নেই। 

 

এদিকে বগুড়া গোয়েন্দা পুলিশ সূত্র জানায়, গত বছর পুলিশে চাকরি দেওয়ার কথা বলে বগুড়ার শেরপুর উপজেলার ছোনকা গ্রামের আব্দুল খালেকের ছেলে রবিউল ইসলাম রনির কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছিল পিঞ্জিরা আক্তার প্রিয়া নামের ওই নারী। গত বছর রনিকে নিয়োগ পাইয়ে দিতে ব্যর্থ হয়ে এবার আবারও তাকে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে রনির পরিবারের সাথে ১০ লাখ টাকার চুক্তি হয়। এরপর ৫০ হাজার টাকা আগাম নেয় সে। ৩ জুলাই রনি বগুড়া পুলিশ লাইনস মাঠে প্রবেশ করে প্রাথমিক বাছাই প্রক্রিয়ায় অংশ নেন। এ সময় বগুড়ার পুলিশ সুপার (এসপি) আলী আশরাফ ভূঞা মাইকে ঘোষণা দেন মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। কোনো প্রার্থী কাউকে টাকা দিয়ে প্রতারিত না হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

রবিউল ইসলাম রনি প্রাথমিক বাছাই পর্বে উত্তীর্ণ হওয়ার পর প্রিয়া নামের ওই নারীকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়ার বিষয়টি পুলিশ সুপারকে জানান। বিষয়টি জানার পর ওই প্রতারক নারীকে গ্রেপ্তারের জন্য গোয়েন্দা পুলিশকে নির্দেশ দেন এসপি। গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল বৃহস্পতিবার কৌশলে ওই নারীকে বগুড়া পুলিশ লাইনসের সামনে থেকে গ্রেপ্তার করে।

বগুড়া পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের পরিদর্শক আসলাম আলী জানান, গ্রেপ্তারকৃত পিঞ্জিরা আক্তার প্রিয়া টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার জাহিদুর রহমান কালু নামে এক ব্যক্তিকে তার সহযোগী হিসেবে জানিয়েছে। তাদের দু’জনের বিরুদ্ধেই প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত