তাপমাত্রা বেড়েই চলছে

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০১৯, ১১:১১ পিএম

স্মরণকালের সবচেয়ে উষ্ণ জুন পার করেছে বিশ্ব। এ সময় ইউরোপ জুড়ে ছিল ভয়াবহ দাবদাহ। গত সপ্তাহে সর্বোচ্চ ৪৫.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করেছে ফ্রান্স। এই মুহূর্তে তাপপ্রবাহ চলছে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যেও। হাফিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। এদিকে প্রচণ্ড দাবদাহে এই গ্রীষ্মে ভারতে শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। এতে আরও বলা হয়, আগামী বছরগুলোতে তাপমাত্রা আরও বাড়তে পারে। এমন বাস্তবতায় দেশটির অনেক অঞ্চল বসবাসের অনুপযোগী হতে পারে, যা সৃষ্টি করতে পারে মানবিক সংকট।

বিজ্ঞানীদের বরাত দিয়ে হাফিংটন পোস্ট জানায়, জলবায়ু সংকটের কারণে বিশ্ব কোন দিকে যেতে পারে, ইউরোপের প্রচণ্ড গরম তার নমুনা মাত্র। জলবায়ু নিয়ে কাজ করা বিজ্ঞানীদের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওয়ার্ল্ড ওয়েদার অ্যাট্রিবিউশন বলেছে, ইউরোপে দাবদাহের ধারাবাহিকতা ও মাত্রা বাড়ানোর বড় কারণ মানুষের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড। মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার গোডার্ড ইনস্টিটিউট ফর স্পেস স্টাডিজের পরিচালক গ্যাভিন স্মিটও একই সিদ্ধান্তে পৌঁছান। তার মতে, মানুষের নানাবিধ কর্মকাণ্ডে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাস যোগ হচ্ছে, যেটি উত্তাপ বাড়ানোর পেছনে মূল ভূমিকা রাখছে।

গ্যাভিন ইমেইলে হাফিংটন পোস্টকে বলেন, ‘এর (বর্তমান তাপমাত্রা) মানে এটা নয় যে, প্রতিবছর বা প্রতি গ্রীষ্ম আগেরবারের চেয়ে বেশি উত্তপ্ত হবে; এটি (দাবদাহ) উষ্ণ তাপমাত্রার রেকর্ডের সুযোগ অনেক বাড়িয়েছে, যা আমরা বিশ্বজুড়ে দেখছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘমেয়াদি প্রবণতা খুবই স্বচ্ছÑ ১৯ শতকের তুলনায় বিশ্ব ২ ডিগ্রি (ফারেনহাইট) বেশি গরম হয়েছে এবং বড় পরিসরে কার্বন নির্গমন কমানো ছাড়া এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে ও রেকর্ড ভাঙতে থাকবে।’

ফ্রান্সের দাবদাহ চলে গেলেও আলাস্কায় এটি খুঁটি গাড়ছে। এটি আগামী সপ্তাহে গড়াবে বলে জানিয়েছেন আকুওয়েদার নামে একটি আবহাওয়াবিষয়ক সংস্থার আবহাওয়াবিদ কাইলি এলিয়ট। তিনি বলেন, এ অঞ্চলে তাপমাত্রা ১১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মতো হতে পারে। ১৯৫০-এর দশক থেকে শুরু হওয়া হিসাব অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যের গুরুত্বপূর্ণ শহর অ্যাঙ্কোরেজে সর্বকালের সবচেয়ে বেশি ৮৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (প্রায় ২৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস) তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।

ভারতে বাড়ছে তাপমাত্রা : ভারতে দাবদাহ সাধারণত শুরু হয় মার্চ থেকে জুলাইয়ের মধ্যে। এটি কমতে শুরু করে মৌসুমি বৃষ্টিপাত শুরু হলে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই উষ্ণতার কাল আরও প্রচণ্ড, ধারাবাহিক ও দীর্ঘ হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেলের (আইপিসিসি) মতে, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে থাকা দেশুগুলোর একটি ভারত। যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাসাচুসেটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির (এমআইটি) বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব কার্বন নির্গমন কমিয়ে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা কমিয়ে আনলেও ভারতের কিছু অংশ এত গরম হবে যে, সেগুলো মনুষ্য বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়বে। জুনে দিল্লিতে ৪৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়, যা ওই মাসে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ। রাজধানী শহরের পশ্চিমে রাজস্থান রাজ্যের চুরু সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড প্রায় ভেঙে ফেলেছিল। অঞ্চলটির তাপমাত্রা ছিল ৫০.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত