প্রথম মোটরসাইকেল কেনার আগে মাথায় রাখুন

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৯, ১১:১৯ পিএম

বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মেলাতে গতি একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ঢাকা কিংবা দেশের বড় শহরগুলোতে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে যানজট সমস্যা। এ সমস্যাকে পাশ কাটানোর জন্য অনেকেই অফিস-আদালতে যাওয়ার পথে নিজের একটি বাইক কেনার চিন্তা করেন। তাই নিজের প্রথম মোটরসাইকেলটি কেনার আগে অবশ্যই কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। আর এখন তো বাইক কেনার প্রথম শর্তই হলো ড্রাইভিং লাইসেন্স থাকতে হবে। তাই গাড়ি কেনার আগেই ড্রাইভিং লাইসেন্স বাধ্যতামূলক। অন্য দিকগুলো হলো ড্রাইভিং লাইসেন্স

মোটরসাইকেল কেনার আগেই ড্রাইভিং লাইসেন্স করুন। কারণ নতুন সরকারি বিধি অনুয়ায়ী, ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া আপনার কাছে মোটরসাইকেল বিক্রি করবে না কোনো শোরুম। এ ক্ষেত্রে মোটরসাইকেল কেনার অন্তত চার মাস আগেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের জন্য আবেদন করতে হবে আপনাকে। কারণ এটি একটি দীর্ঘ প্রক্রিয়া। মোটরসাইকেল কেনার পর সেটিরও লাইসেন্স প্রয়োজন হবে, বিটিআরসির মাধ্যমে সেটিও সংগ্রহ করুন।

কোনটি আপনার জন্য মানানসই

মোটরসাইকেল কেনার আগে আপনার বয়স, প্রয়োজন ও ব্যবহারের সঙ্গে মানানসই ব্র্যান্ড ও মডেল খুঁজে বের করা জরুরি। মোটরসাইকেল তো অনেক ধরনেরই হতে পারে, সাধারণ স্কুটারের মতো শান্তশিষ্ট যেমন হয়, তেমনি হয় রণতরীর মতো প্রকাণ্ড ও দুর্বার।

কীভাবে ব্যবহার হবে, কতটা দূরত্ব যাবেন, প্রতিদিন নাকি সপ্তাহান্তে? প্রতিদিনের যাতায়াত ব্যবহারের জন্য সাইজে হালকা এবং বেশি এমপিজি (মাইলিজ পার গ্যালন) সম্পন্ন বাইক নেওয়া উচিত, যা হবে আরামদায়ক ও সাশ্রয়ী। অন্যদিকে, শুধু সপ্তাহান্তে চালানোর জন্য একটু দামি এবং স্টাইলিশ বাইককে প্রাধান্য দেওয়া যেতে পারে।

আপনার শারীরিক সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিন। প্রথম মোটরসাইকেল কিনতে গিয়ে বেশির ভাগেরই আকর্ষণ থাকে পারফরম্যান্সের ওপর, কিন্তু সেটি হ্যান্ডেল করার মতো সামর্থ্য আপনার আছে কি না, সেদিকে লক্ষ রাখা উচিত। ভালো চালক হতে হলে শুধু সাইজে বড়, বড় ইঞ্জিনওয়ালা বাইক নিলেই হয় না বরং আপনার শরীরের সঙ্গে মানানসই বাইকটিই আপনাকে তুলনামূলক ভালো চালক করে তুলবে, তা হতে পারে ছোট কিংবা কমশক্তি সম্পন্ন। বাইক অনেকটা এক জোড়া জুতা কেনার মতো, ছোট কিংবা বড় কোনোটিই আরামদায়ক হবে না, ঠিকঠাক হাঁটার জন্য সঠিক মাপটাই প্রয়োজন।

দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবেন না, দেখুন, জানুন তারপর কিনুন। এখন প্রতিটি ব্র্যান্ডের ভালো এবং মন্দ দিকগুলো নিয়ে প্রচুর রিভিউ পাওয়া যায় ইউটিউব, বাইক সম্পর্কিত ব্লগসাইট এবং ফেইসবুক গ্রুপগুলোতে, সময় নিয়ে সেগুলো দেখুন, ঘাঁটাঘাঁটি করুন এবং অভিজ্ঞদের পরামর্শ নিন।

ট্রেনিং কোর্স করে রাখুন

অল্প বিদ্যা সত্যিই ভয়ংকর। দু-এক দিন বন্ধুর মোটরসাইকেল নিয়ে খোলা মাঠে দুবার ঘুরে শিখে গেছিÑ এমন ভাবনা না ভাবাই ভালো। সঠিক কায়দাকানুন না জেনে রাস্তায় নেমে যাওয়া মানে নিজের এবং রাস্তায় চলাচল করা অন্যদের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া।

এখন বাইক চালানো শেখানোর জন্য বিভিন্ন অ্যাকাডেমিক কোচিং সেন্টার হয়েছে, সবচেয়ে ভালো হয় এ রকম কোথাও থেকে একটি কোর্স করে ফেললে। সঠিক নিয়মগুলো জেনেবুঝে শিখলে তা আপনার জীবন ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা বাড়াবে।

আনুষঙ্গিক যন্ত্রপাতি

সঠিক বাইকের সঙ্গে সঠিক গিয়ারগুলো পছন্দ করাও জরুরি। কিছু কিছু ক্ষেত্রে তার বাইকের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক গিয়ার আপনার যাত্রাকে একই সঙ্গে করে তুলবে নিরাপদ এবং আরামদায়ক। সাধারণত একজন মোটরসাইকেল আরোহীর হেলমেট, জ্যাকেট, বুটস, প্যান্ট, গ্লাভস প্রয়োজন হয়।

বাংলাদেশের আইনে হেলমেট ছাড়া বাইক চালানো বেআইনি, এমনকি চালকের পেছনে কেউ বসলে তারও হেলমেট পরা বাধ্যতামূলক। এমনিতেও হেলমেট সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ মোটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে। হেলমেট বিভিন্ন ধরনের, আকারের হয়ে থাকে, তবে আমাদের পরামর্শ সব সময়ই পুরো মুখ ঢাকা হেলমেটের পক্ষে কারণ এটা সর্বাধিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

সাধারণ ভ্রমণের ক্ষেত্রে জ্যাকেট প্যান্ট বাধ্যতামূলক না হলেও দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য বাইক জ্যাকেট প্যান্ট পরা উচিত। কারণ এগুলো আপনার শরীরকে রক্ষা করবে বড় ধরনের ক্ষতি থেকে। বাইকের জন্য সাধারণত চামড়ার জ্যাকেট অথবা বাইক স্পেশাল জ্যাকেট ব্যবহার করা হয়।

গ্লাভসের ব্যবহার খুবই উপকারী একজন চালকের জন্য। হাতের নিরাপত্তার সঙ্গে সঙ্গে হাত শুকনো রেখে কাজগুলো আরামদায়ক করে তোলে বাইক গ্লাভস।

বাইক বুটস খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি বিশেষভাবে তৈরি করা হয় বাইকের জন্যই। সঙ্গে সঙ্গে মাথায় রাখা হয় রাইডারের নিরাপত্তাও। এই বুটগুলো আপনার পা এবং গোড়ালিকে ইঞ্জিনের তাপ থেকে যেমন রক্ষা করবে, তেমনি হঠাৎ পা পিছলে যেতেও বাধা প্রদান করবে। এ ছাড়া অতিরিক্ত কিছু প্যাডিং/আর্মার রয়েছে কনুই, কাঁধ, ঘাড়, হাঁটু, কোমর এবং মেরুদণ্ড প্রতিরক্ষার জন্য, লং রাইডে গেলে এসবসহ প্রস্তুতি নেওয়া ভালো।

অনুশীলনের বিকল্প নেই

একবার আপনার ট্রেনিং শেষ হলো কিংবা আপনি পরীক্ষা দিয়ে ড্রাইভিং লাইসেন্স পেয়েও গেলেন, তার মানে এই নয় যে, আপনি এখনই লং রাইডে বেরিয়ে যেতে পারেন কিংবা প্রতিযোগিতায় নেমে যেতে পারেন। তাড়াহুড়োর কিছু নেই। ধৈর্যশীল হন, ধীরে ধীরে শুরু করুন।

লাইসেন্স পাওয়া কিংবা ট্রেনিং কোর্সে আপনি ছিলেন খালি রাস্তায়, কিন্তু পাবলিক রোড সম্পূর্ণ আলাদা ব্যাপার। তাই অতি আত্মবিশ্বাসী হয়ে না গিয়ে চলতে শুরু করুন, পাবলিক রোড মানেই এখানে শুধু নিজের কাজটা ঠিকভাবে করে নিশ্চিত থাকা যায় না, অন্য কেউ ভুল করছে কি না এবং সেই ভুলের ক্ষতিটা যাতে আপনার ওপর যায়, সেদিকেও লক্ষ রাখা জরুরি।

মোটরসাইকেল চালানো শেখার সময় যে সিগন্যালগুলো দিতে শেখানো হয়েছে, সঠিকভাবে তার ব্যবহার নিশ্চিত করুন, কোনোভাবেই অবহেলা করবেন না।

পুরোপুরি নিজের চালনাতে বিশ্বাস না আসা পর্যন্ত পিলিয়ন (পেছনে যাত্রী) না নেওয়াই ভালো। কারণ পিলিয়ন নেওয়া মানেই মোটরসাইকেলের ওজন বেড়ে যাওয়া, তখন তার কন্ট্রোল একসিলারেশনও আলাদা হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, একাধিক পিলিয়ন কখনোই নয় কারণ এটি আইনত দণ্ডনীয়।

প্রথম মোটরসাইকেল কেনার আগে এই মূল ব্যাপারগুলো নিশ্চিত করলে আপনার মোটরসাইকেল চালানো অনেক বেশি সহজ, আরামদায়ক এবং নিরাপদ হয়ে উঠবে বলে আশা করা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত