পরিবারছাড়া হচ্ছে মুসলিম শিশুরা

আপডেট : ০৬ জুলাই ২০১৯, ১২:২১ এএম

চীনের পশ্চিমের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল শিনচিয়াংয়ে মুসলিম শিশুদের তাদের পরিবার, বিশ্বাস ও ভাষা থেকে বিচ্ছিন্ন করে আবাসিক সেন্টারে রাখা হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক গবেষণা প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। এর আগে হাজার হাজার প্রাপ্তবয়স্ককে আটককেন্দ্রে আটকে রাখার খবর এসেছিল বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে।

বিভিন্ন উৎস থেকে প্রাপ্ত নথি, একাধিক পরিবারের সদস্যের সাক্ষাৎকারের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, শিনচিয়াংয়ের একটি শহরের চার শতাধিক শিশু হারিয়ে গেছে। তাদের বাবা-মাকেও আটকে রাখা হয়েছে। তারা হয় আটককেন্দ্রে, নয়তো কারাগারে। মুসলিমদের তাদের পরিচয় নিশ্চিহ্ন করার পাশাপাশি শিশুদেরও তাদের মূল থেকে সরানোর প্রক্রিয়া ছিল এটা।

তুরস্কে আশ্রয় নেওয়া অনেক উইঘুর চীনের নিপীড়নের কথা শোনায় বিবিসিকে। ইস্তাম্বুলে একটি হলে একজন নারী তার সন্তানদের ছবি দেখিয়ে বলেন, আমি জানি না তাদের কে দেখাশোনা করছে। আমার সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগই নেই। আরেকজন মা তার তিন ছেলে ও এক মেয়ের ছবি হাতে নিয়ে কান্না করতে থাকেন। তিনি বলেন, আমি শুনেছি তাদের এতিমখানায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এমন ৬০ জনের পৃথক সাক্ষাৎকার নিয়েছে বিবিসি। তাদের সবার কথাতেই উঠে এসেছে শিশুদের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার ঘটনা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিনজিয়াং প্রদেশে চীনা সরকার উইঘুর মুসলিমদের বেশ কয়েকটি ক্যাম্পে আটক রেখেছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যানুসারে বিগত কয়েক বছর ধরে প্রায় ২০ লাখ মানুষ সেখানে বন্দি রয়েছে। উইঘুর ছাড়াও কাজাখ, কিরগিজ মুসলিমরাও সেখানে বন্দি। যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা বেশ কয়েকটি দেশ ও মানবাধিকার সংগঠন জানিয়েছে, এই ক্যাম্পগুলো আটক শিবির ছাড়া কিছুই নয়। তবে চীন এই দাবি অস্বীকার করে বলেছে, এটা স্বেচ্ছামূলক উন্মুক্ত প্রশিক্ষণ কেন্দ্র।

এক উইঘুর মুসলিম জানান, চীনে তার স্ত্রীকে ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে। তার ৮ সন্তান এখন চীনা কর্র্তৃপক্ষের অধীনে। তাদের সম্ভবত শিশু শিক্ষা ক্যাম্পে নেওয়া হয়েছে।

জার্মান গবেষক অ্যাড্রিয়ান জেনজ বলেন, শিনজিয়াংয়ে স্কুল সম্প্রসারণের ব্যাপক কার্যক্রম চলছে। নতুন ডরমিটরি তৈরি হচ্ছে এবং সেখানে ধারণক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে। এখন রাষ্ট্র অনেক শিশুর ২৪ ঘণ্টা তদারকির সক্ষমতা অর্জন করেছে। একই সঙ্গে তারা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ক্যাম্প তৈরি করছে। এসবই মুসলিমদের জন্য তৈরি করা হচ্ছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত