রাজধানীর ওয়ারীতে শিশু শিক্ষার্থী সামিয়া আফরিন সায়মাকে (৭) ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। গতকাল শনিবার সায়মার মরদেহের ময়নাতদন্তের পর চিকিৎসক সোহেল মাহমুদ দেশ রূপান্তরকে এই তথ্য জানিয়েছেন। ওয়ারী থানা পুলিশ বলছে, ধর্ষক ও ঘাতক এক বা একাধিক ব্যক্তি। আর ধর্ষণের পর পরিচয় লুকাতেই শিশুটিকে খুন করা হয়েছে। এর আগে গত শুক্রবার ওয়ারীর
বনগ্রাম এলাকার একটি বহুতল আবাসিক ভবনের ৯ম তলার একটি খালি ফ্ল্যাটের রান্নাঘর থেকে শিশু সায়মার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পর শিশুটিকে রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়। এ ঘটনায় ওয়ারী থানায় অজ্ঞাত কয়েকজনকে আসামি করে মামলা হয়েছে। সায়মাকে ধর্ষণ ও হত্যায় জড়িত সন্দেহে ওই বাড়ির ছয়জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ।
ওয়ারী থানার এসআই হারুন অর রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মর্মান্তিক ও পৈশাচিক এই ঘটনায় এক বা একাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকতে পারে। ধারণা করা হচ্ছে, বাসার ফিটিংসের কাজ করতে যারা ওই ভবনে ঢুকেছিল তারাও এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। আবার ভবনের বাসিন্দাদের মধ্যেও কেউ এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারে। ধর্ষক নিজের পরিচয় আড়াল করতেই শিশুটিকে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত ও শ্বাসরোধে হত্যা করেছে।’
ধর্ষক ও খুনি শনাক্তের জন্য ভবনের বেশ কয়েকজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে জানিয়ে এসআই হারুন আরও বলেন, ‘আশা করছি দ্রুতই খুন ও ধর্ষণে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।’
নিহত সায়মার বাবা আবদুস সালাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রক্তে ভেজা মেয়েকে শেষবারের মতো দেখেছি। কবর দিয়ে এলাম আজিমপুর কবরস্থানে। আমার মেয়ের এমন পরিণতি যারা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসক ডা. সোহেল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান, শিশুটির গলায় রশি দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার আলামত মিলেছে। তার ঠোঁটে কামড়ের ও যৌনাঙ্গে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। সায়মার মৃতদেহ থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নরসিংদী শিবপুর উপজেলার ইকনা গ্রামের আ. সালামের মেয়ে সায়মা। পরিবারের সঙ্গে বনগ্রাম রোডের ১৩৯ নম্বর ৯তলা বাড়ির ষষ্ঠ তলায় নিজেদের ফ্ল্যাটে থাকত। তার মায়ের নাম সানজিদা আক্তার। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল সে। বাবা সালাম নবাবপুরে ব্যবসা করেন। স্থানীয় সিলভার ডেল নামে একটি স্কুলের নার্সারি শ্রেণিতে পড়ত সায়মা।
তার বাবা আ. সালাম বলেন, ‘শুক্রবার সন্ধ্যায় আমি মাগরিবের নামাজ পড়তে যাই। তখনো বাসায় ছিল সায়মা। এরপর সে মাকে বলে পাশের ফ্ল্যাটে যায় ওই বাসার দুই বাচ্চার সঙ্গে খেলাধুলা করতে। পরে ওই দুই বাচ্চাকে নিয়ে সে আটতলায় আরেকটি ফ্ল্যাটে যায় আরেক বাচ্চাকে ডাকতে। তবে সেই বাচ্চার মা সায়মাকে বলে, ও এখন খেলবে না, তুমি বাসায় যাও। এরপর সায়মা সেই বাসা থেকে বেরিয়ে আসে।’
এর কিছুক্ষণ পর সায়মার মা তাকে খুঁজতে থাকেন জানিয়ে আ. সালাম আরও বলেন, ‘সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাসায় ফিরে আমিও মেয়ের খোঁজ করি। অনেক খোঁজাখুঁজি করেও তাকে পাচ্ছিলাম না। পরে বাড়ির ৯ তলায় উঠি। ওই তলায় দুটি ফ্ল্যাটে এখনো কেউ থাকেন না। এরপর একটি ফ্ল্যাটে ঢুকে সায়মার জুতা দেখতে পাই। পরে আরও ভেতরের দিকে গিয়ে রান্নাঘরের বেসিনের নিচে মোড়ানো অবস্থায় হেলান দিয়ে বসা সায়মাকে দেখতে পাই। তার গলায় রশি পেঁচানো ছিল। তখন দেখি তার শ্বাস চলছে না। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হয়।’
