গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ

নিরুত্তাপ হরতাল ১৪ জুলাই জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০১৯, ০১:৩০ এএম

গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে সারা দেশে পালিত হয়েছে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা আধাবেলা হরতাল। গতকাল রবিবার জোটের আট ঘণ্টার হরতালের

পর জোটের পক্ষ থেকে একই দাবিতে ১৪ জুলাই জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

দেশ রূপান্তরের নিজস্ব প্রতিবেদক ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর অনুসারে এই হরতালে রাজধানী বা দেশের কোথাও বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।

বৃষ্টির মধ্যে চলা হরতালে রাজধানীর পল্টন মোড়ে হরতাল সমর্থকরা কয়েকটি গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় বিপ্লবী সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের দপ্তর সম্পাদক হযরত আলীসহ দুজনকে আটক করে পুলিশ। পরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। এছাড়া শাহবাগ এলাকা থেকেও বাম জোটের কয়েকজন নেতাকর্মীকে আটকের পর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

হরতালকে ঘিরে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় ঢাকা মহানগর পুলিশ। রাস্তার মোড়ে মোড়ে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ। মোতায়েন রাখা হয় রায়ট কার, এন্টি পার্সোনেল কার (এপিসি) ও জলকামানসহ দাঙ্গা মোকাবিলার বিভিন্ন সরঞ্জাম।

ডিএমপির উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, হরতালে যেকোনো ধরনের নাশকতা রোধে জনসাধারণের জানমালের নিরাপত্তায় প্রস্তুত ছিল পুলিশ। হরতালে কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি।

সকাল ৭টায় রাজধানীর পুরানা পল্টন মোড়, মুক্তাঙ্গন ও প্রেস ক্লাব এলাকায় বাম গণতান্ত্রিক জোটের শরিক দল বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (মার্কসবাদী), গণসংহতি আন্দোলন, বাংলাদেশের ইউনাইটেড কমিউনিস্ট লীগ, গণতান্ত্রিক বিপ্লবী পার্টি এবং বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নেতারা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে মিছিল করেন। একই সময় প্রগতিশীল ছাত্র জোটের নেতাকর্মীরা টিএসসি থেকে মিছিল নিয়ে সায়েন্স ল্যাবরেটরি ঘুরে শাহবাগ মোড় অবস্থান নেন। তারা সড়কে বসে পড়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, সায়েন্সল্যাব ও প্রেস ক্লাব মোড় থেকে আসা যানবাহনগুলো আটকে যায়। শুধু বাংলামোটরের দিক থেকে প্রেস ক্লাবের দিকে যাওয়া সড়কে যানবাহন চলে। এছাড়া রাজধানীর অন্য এলাকাগুলোতে তেমন কোনো পিকেটিং দেখা যায়নি। হরতালেও রাজধানীর সড়কগুলোতে ছিল তীব্র যানজট।

দুপুর ১২টা থেকে রাজধানীর সব এলাকা থেকে বাম জোটের নেতাকর্মীরা পল্টন গোল চত্বরে জড়ো হয়ে সমাপনী সমাবেশ করে। সমাবেশে বাসদের সাধারণ সম্পাদক খালেকুজ্জামান বলেন, ‘জনগণের দাবি আদায়ে রাজপথে আছি। দাবি না মানা পর্যন্ত আমরা কর্মসূচি এগিয়ে নিয়ে যাব। সরকারকে বলব জনগণের দাবির কাছে নতিস্বীকার করুন। না হলে পালানোর পথ পাবেন না।’

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘কত গাড়ি রাস্তায় নামল তা দিয়ে হরতালের সফলতা বিচার করা যাবে না। কারণ এই হরতালে ১৬ কোটি মানুষের সমর্থন রয়েছে।’

সমাপনী বক্তব্যে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সমন্বয়ক মোশারফ হোসেন নান্নু ১৪ জুলাই জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচির মধ্য দিয়ে হরতালের সমাপ্তি ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, ‘গ্যাসের বর্ধিতমূল্য প্রত্যাহারের দাবিতে ১৪ জুলাই জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে। এরপরও সরকার গ্যাসের দাম বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে ১৯ জুলাই ঢাকায় প্রতিনিধি সভা করা হবে।’

এদিকে গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রতিবাদে বাম গণতান্ত্রিক জোটের ডাকা হরতালে প্রায় সবকিছুই স্বাভাবিক ছিল খুলনা মহানগরীতে। সকালে নগরীর পিকচার প্যালেস মোড়ে হরতাল সমর্থনে একটি সংক্ষিপ্ত মানববন্ধন হয়। তবে নগরীর বিভিন্ন বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস যথারীতি গন্তব্যস্থলের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। নগরীর যান চলাচলও ছিল স্বাভাবিক।

হরতালের তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি বিভাগীয় শহর রাজশাহীতেও। যানবাহন চলাচলসহ মহানগরীর দোকানপাট এবং বড় বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানও খোলা ছিল। তবে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) প্রধান ফটের সামনে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত তারা এ অবরোধ কর্মসূচি পালন করেন। এতে মহাসড়কে দুই পাশের যান চলাচলে বিঘœ ঘটে। প্রায় আধঘণ্টা মহাসড়কে অবস্থানের পর পুলিশের অনুরোধে নেতাকর্মীরা মহাসড়ক ছেড়ে দেন।

বরিশালেও প্রভাব পড়েনি হরতালের। দোকানপাট, অফিস-আদালত স্বাভাবিক নিয়মে চলেছে। সকাল ৬টা থেকে নগরের সদর রোডের কাকলী থেকে জেলখানার মোড় এলাকায় পিকেটিং করে হরতাল সমর্থনকারীরা। এরপর সকাল পৌনে ৭টার দিকে নগরের কাকলীর মোড় এলাকায় যান চলাচল না করার আহ্বান জানিয়ে মিছিল করে বাম গণতান্ত্রিক জোট। পরে সকাল সোয়া ৮টার দিকে পুলিশ কাকলীর মোড়ে অবস্থান নিয়ে হরতাল সমর্থনকারীদের হটিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিত-ার সৃষ্টি হয়।

রংপুরেও পুলিশের বাধার মুখে পড়ে হরতাল সমর্থনকারীরা। সকালে হরতালের সমর্থনে প্রেস ক্লাব থেকে একটি মিছিল বের করেন বাম জোটের নেতাকর্মীরা। গ্র্যান্ড হোটেল ও জাহাজ কোম্পানি মোড়ে পুলিশি বাধার মুখে পড়লে নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের সামনে সমাবেশ করেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত