খোঁড়াখুঁড়ির ভোগান্তিতে হাজারো বাসিন্দা

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১২:২৫ এএম

রাজধানী ঢাকার বেশিরভাগ এলাকায় বছরভর চলে ওয়াসা, তিতাস কিংবা সিটি করপোরেশনের খোঁড়াখুঁড়ি। উন্নয়নের নামে সড়কে এ ধরনের ‘অপরিকল্পিত’ খোঁড়াখুঁড়ি বছরভর নাগরিক ভোগান্তিরও অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে বর্ষায় এই ভোগান্তি মাত্রা ছাড়িয়ে যায়। এবারের বর্ষায় খিলগাঁওয়ের তিলপাপাড়ার বাসিন্দারা পড়েছেন তেমনই মাত্রা ছাড়া ভোগান্তিতে।

নির্দেশনা অনুযায়ী সড়কে সেবা সংস্থার কোনো উন্নয়ন করতে হলে ২৮ দিন বা চার সপ্তাহের মধ্যেই শেষ করতে হয়। কিন্তু তিলপাপাড়া এলাকার মূল সড়কটিতে খোঁড়াখুঁড়ির কাজ তিন মাস আগে শুরু হলেও এখনো শেষ হয়নি। এই সড়কে দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) স্টর্ম সুয়ার (বৃষ্টির পানি যাওয়ার ড্রেনেজ) বসানোর কাজ চলছে। এখন সামান্য বৃষ্টিতেই কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায় পুরো রাস্তা। এখানকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে রাস্তার কারণে চরম ভোগান্তিতে আছেন তারা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খিলগাঁও ফ্লাইওভারের নিচে রেলগেট এলাকার মোড়ে বনশ্রী এবং মেরাদিয়াগামী সড়কে পুরো রাস্তা খুঁড়ে রাখা হয়েছে। চারদিকে রাস্তার মাটি উঁচু-নিচু করে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। একই অবস্থা তিলপাপাড়া সড়কেও। নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে মাসের পর মাস খোঁড়াখুঁড়ি। আর এর মধ্যে চলাচল করছে এলাকার মানুষ। স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এখন নিত্যদিনের সঙ্গী। সড়কটিতে যানবাহন তো দূরের কথা, হেঁটে চলাচলও মুশকিল। সামান্য বৃষ্টি হলেই কাদাপানিতে নাকাল হচ্ছেন ওই এলাকার বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গেল দুই বছরে একাধিকবার এই সড়কে উন্নয়নের কাজ হয়েছে। সর্বশেষ ছয়-সাত মাস আগেও সেবা সংস্থা ওয়াসা সুয়ারেজের লাইন স্থাপনে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করেছিল। তাদের কাজ শেষ হওয়ার চার মাস পরেই আবার রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তা বলছেন, উন্নয়নকাজ যত দ্রুত সম্ভব শেষ করার তাগিদ থাকলেও অনেক সময় তা সম্ভব হয় না আবহাওয়ার কারণে। আবার সড়কে যান চলাচল বন্ধ করে মানুষের যাতায়াতের সুযোগ রাখলে রিকশা-সিএনজি ঢুকে পড়ে। তাতেও কাজের ব্যাঘাত ঘটে।

তিলপাপাড়ার বাসিন্দা মুকিত দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই রাস্তায় গত তিন মাসের বেশি সময় ধরেই কাজ চলছে, কবে শেষ হবে কে জানে। মানুষের কষ্ট কমাতে গিয়ে যদি কষ্ট আরও বাড়ে তাহলে সে উন্নয়ন দিয়ে কী হবে।’

তবে কাজ দ্রুত শেষ করার আশ্বাস দিয়ে প্রকল্প তত্ত্বাবধায়ক মো. শামীম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাল ধরা হয়েছে ১৮ মাস। সবে তিন মাস চলছে। আগে ছিল ২৪ ইঞ্চি পাইপ। এখন বসানো হচ্ছে ৪২/৪৪ ইঞ্চির পাইপ। আর এগুলো বসানো হলে এলাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা থাকবে না।’

এ বিষয়ে ডিএসসিসির অঞ্চল-২-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. হারুন অর রশিদ বলেন, ‘স্টর্ম সুয়ার লাইন প্রকল্পটি বছরমেয়াদি প্রকল্প। এর কাজে মাটি কেটে একটা সুয়ার পাইপলাইন বসানোর পর ২৮ দিন পর্যন্ত কিউরিং হয়। এ সময় এটার ওপর দিয়ে কোনো ভারী যানবাহন চলাচল করলে কাজের ব্যাঘাত ঘটবে। পাইপগুলো ভেঙে যাবে। এজন্য অনেকে মনে করে রাস্তার ওপর মাটি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখেছি। আসলে এটা করা হয়েছে রিকশা বা সিএনজি চলাচল ঠেকাতে। সিএনজি চলাচল করলে পাইপ ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।’

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত