সিরাজগঞ্জে বাঁধ কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা, বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০১৯, ১১:০২ পিএম

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের রাউতারা সøুইসগেট সংলগ্ন বন্যা নিয়ন্ত্রণ রিং বাঁধটি গত সোমবার গভীর রাতে ও গতকাল মঙ্গলবার দুই স্থানে দুর্বৃত্তরা কেটে দিয়েছে। এতে সিরাজগঞ্জ ও পাবনা জেলার ৬টি উপজেলার বিস্তীর্ণ গোচারণ ভূমি ও বাথান এলাকা পানিতে ডুবে গেছে। ফলে এ দুই জেলার ৬ উপজেলার গো-খামার মালিকরা তাদের গবাদিপশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। উপজেলাগুলো হলো শাহজাদপুর, উল্লাপাড়া, তাড়াশ, ফরিদপুর, ভাঙ্গুড়া ও চাটমোহর।

এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলার পোতাজিয়া ইউনিয়নের চরাচিথুলিয়া গ্রামের আলহক ফকির, রাউতারা গ্রামের ফরমান শেখ, বাচ্চু সরকার ও রোশনাই জানানÑ সোমবার রাত ১১টার পর কে বা কারা বাঁধের পশ্চিম অংশে ও মঙ্গলবার সকালে মৎস্য শিকারিরা বাঁধের মাঝ বরাবর কেটে  দেয়। মুহূর্তে ১২০০ মিটার বাঁধের অধিকাংশ পানির চাপে ভেঙে যায়। এতে বাঁধের ভেতরে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। জমির সব ফসল আগেই উঠে যাওয়ায় ফসলের কোনো ক্ষতি না হলেও বিপাকে পড়েছেন গো-খামার মালিকরা। তারা বাথান এলাকা থেকে গবাদিপশু সরিয়ে নিয়ে বাড়ির উঁচু স্থানে রাখছেন। আর গোচারণ ভূমি ডুবে যাওয়ায় ঘাসের অভাবে খামারের অধিকাংশ গরুর দুধ উৎপাদন কমে গেছে। এতে খামারিরা লোকসানের মুখে পড়েছেন। তারা অভিযোগ করেন, বাঁধ এলাকার মৎস্য শিকারি ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা মালিকরা অধিক মুনাফার লোভে বাঁধটি কেটে দিয়েছেন।

এ ব্যাপারে পোতাজিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও রেশমবাড়ি গ্রামের গো-খামার মালিক মোহাম্মদ আলী ব্যাপারী বলেন, বাঁধটি রক্ষায় গত ২ সপ্তাহ ধরে ২ জন  চৌকিদারকে পাহারার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারপরও দুর্বৃত্তরা চৌকিদারদের নজর এড়িয়ে বাঁধটি কেটে দিয়েছে। এ বছর আগেই ফসল উঠে যাওয়ায় ফসলের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে খামারিরা তাদের গবাদিপশু নিয়ে বেশ বিপাকে পড়েছেন।

শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মঞ্জু আলম সরকার বলেন, জমি থেকে ফসল আগেই উঠে গেছে। ফলে ফসলের তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে গো-খামারিদের কিছুটা ক্ষতি হবে।

এ ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ড সিরাজগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, বাঁধটি কেটে দেওয়ায় ফসলের কোনো ক্ষতি না হলেও বাঁধের অভ্যন্তরে পানি  ঢোকায় গো-খামারিদের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সেদিকে খেয়াল রাখা হবে। তিনি আরও বলেন, আগামী বছর এখানে স্থায়ী বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন হলে তখন আর এ সমস্যা থাকবে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত