জরুরি তহবিলের জন্য যা জানা দরকার

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ০১:৪১ এএম

রাগের বশে দুম করে চাকরিটা ছেড়ে দিল পারুল। ইমিডিয়েট বসের কেবিনে পদত্যাগপত্রটি জমা দিয়েই বেরিয়ে পড়ল অফিস থেকে। কিচ্ছু ভালো লাগছিল না। বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে মাথা ঠাণ্ডা হতেই মনজুড়ে জায়গা নিল দুশ্চিন্তা। চাকরি তো ছেড়ে দিয়ে এলো, মাস চলবে কী করে? বাড়িভাড়া, সওদাপাতি- দুর্মূল্যের বাজারে খরচ তো নেহাত কম নয়। সঞ্চয়ও নেই। এখন নিজের ওপরই রাগ হতে লাগল পারুলের। জরুরি তহবিল বা ইমার্জেন্সি ফান্ড হিসেবে মাসে মাসে কিছু টাকা জমালে এ সমস্যায় পড়তে হতো না। অন্তত কিছু মাস চালিয়ে নেওয়া যেত। নতুন চাকরি পেতেও তো কিছু সময় প্রয়োজন। শুধু পারুল নয়। এ সমস্যায় প্রতিনিয়ত পড়তে হয় চাকরিজীবীদের। তবে শুধু চাকরি নয়, যেকোনো দুর্ঘটনা মোকাবিলায় সঙ্গী হতে পারে ইমার্জেন্সি ফান্ড। তাই সবারই মাসে মাসে সাধ্যমতো সঞ্চয়ে গুরুত্ব দেওয়া উচিত। আজ থাকছে ইমার্জেন্সি ফান্ড গড়ে তোলার কিছু উপায়।

থাকতে হবে সঞ্চয়ের লক্ষ্য : এটা এক ধরনের নিজেকেই নিজের কাউন্সেলিং করা। নিজেকেই প্রবোধ দেওয়া আরকি। সঞ্চয়ের চেষ্টাটাই মূল কথা নয়। ইমার্জেন্সি ফান্ডের লক্ষ্যমাত্রা নিজেকেই স্থির করে নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। অর্থাৎ, সঞ্চয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে।

তিন থেকে ছয় মাসের খরচ এখনো বেঞ্চমার্ক : তিন থেকে ছয় মাসের খরচ ইমার্জেন্সি ফান্ডে রাখা জরুরি। এর জন্য অপ্রয়োজনীয় খরচ কমিয়ে দিতে হবে। কিন্তু যাকে পরিবারের সব খরচ বহন করতে হয়, তার জন্য এ অর্থ সঞ্চয় করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে পরিবারের সবাইকেই সাশ্রয়ী হতে হবে।

নগদ সঞ্চয় : অনেকে সঞ্চয়টাই বিনিয়োগ করেন, আবার কেউ কেউ ঘরেই রেখে দেন। যাই করুন না কেন, নগদ অর্থের জোগান থাকতে হবে। এতে যেকোনো বিপর্যয়েই টাকা হাতে থাকবে। যেমন : ছয় মাসের সঞ্চয় মজুদ আছে আপনার। কিন্তু তিন মাসের সঞ্চয় বিনিয়োগ করা হয়েছে। এতে বিপর্যয়ের সময় কিছু টাকা চাইলেই ব্যবহার করতে পারবেন আপনি। বিশ্লেষকরা বলেন, ইমার্জেন্সি ফান্ড তৈরি করতে হবে সহজ পন্থায়। এতে প্রয়োজনের সময় হাতের কাছে টাকা পাওয়াটা সহজ হবে।

উচ্চ     সুদের সঞ্চয়ী হিসাবে সঞ্চয় করুন : ইমার্জেন্সি ফান্ড সহজ হতে হবে, তার মানে এই নয়, টাকা সব সময় বাড়িতেই রাখতে হবে। মোটা অঙ্কের অর্থ বাড়িতে রাখা একদমই উচিত নয়। এ ক্ষেত্রে সেভিংস অ্যাকাউন্টে টাকা সঞ্চয় করা যায়। টাকা মজুদ রাখায় কোনো ঝঞ্ঝাট পোহাতে হলো না, আবার প্রয়োজনের সময় টাকাটাও তুলে নেওয়া যাচ্ছে। শুধু এটিএম কার্ডটা সঙ্গে থাকলেই হলো। উচ্চসুদের সেভিংসে রাখলে কিছুটা হলেও বাড়বে টাকার পরিমাণ।

ইমার্জেন্সি ফান্ড কেন, মাথায় রাখতে হবে : সব ধরনের সঞ্চয়েরই উদ্দেশ্য থাকা গুরুত্বপূর্ণ। তা না হলে লক্ষ্যে পৌঁছানো অসম্ভব। আর লক্ষ্যই মানুষকে ভবিষ্যতে সঠিক পথে চলতে সহায়তা করে। ইমার্জেন্সি ফান্ডের উদ্দেশ্যই বিপদের বন্ধু হয়ে পাশে দাঁড়ানো। প্রয়োজনের বিষয়টি একেকজনের কাছে একেক রকম। যেমনÑ পছন্দের পোশাকটি দেখেই কিনে নেওয়া বা সপ্তাহ শেষে ছুটি কাটাতে শহরের বাইরে যাওয়ার খরচ মেটানো ইমার্জেন্সি ফান্ডের কাজ নয়। বিপদে-আপদেই এ ফান্ডের টাকা খরচ বাঞ্ছনীয়।

মডেল : অতসী; ছবি : রিপন

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত