সময় ম্যানেজ করতে গিয়ে সময় নষ্ট করবেন না

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ০১:৫১ এএম

সময়কে ম্যানেজ করা যায় না। নিজেকে ম্যানেজ করতে হবে। সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে নিজেকে ম্যানেজ করাটাই আসল কথা। পুরো বিষয়টি সেলফ ম্যানেজমেন্ট ছাড়া কিছুই নয়। সময় মতো নিজেকে সামলাতে ২০ পরামর্শ।

এক. সব পরিকল্পনাই ভেস্তে যাবে যদি নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা না যায়। সুতরাং নিজেই যখন নিজের প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায় তখন কোনো পরামর্শই কাজে লাগে না।

দুই. শুধু অফিসেই নয়, সারা জীবনের সব ক্ষেত্রে সময় ম্যানেজের প্রয়োজনীয়তা বলে শেষ করা যাবে না। ফলে শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপনে অভ্যস্ত হওয়া খুব জরুরি। একেবারে শুরুতেই প্রতিদিন ঘুম থেকে ওঠা আর ঘুমানোর সময়টা বেঁধে ফেলুন। কোনোভাবেই এর ব্যতিক্রম করবেন না। দুই-এক সপ্তাহে বা দুই-এক মাসে এ অভ্যাস গড়ে ওঠে না। অবিরাম অনুশীলনে এক সময় সফল হওয়া যায়।

তিন. একে একে খাবারের সময়, অ্যাপয়েন্টমেন্টের সময়, বেড়ানোর সময়, টিভি দেখার সময় ইত্যাদি নির্দিষ্ট করে ফেলুন এবং তা মেনে চলার অভ্যাস তৈরি করুন।

চার. আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ দশ সময় অপচয়কারী বিষয় বা বক্তির নামের তালিকা করুন। এবার এদের নিয়ন্ত্রণ করার অনুশীলন শুরু করুন।

পাঁচ. আপনার জীবনের শ্রেষ্ঠ দশ সময়ের সদ্ব্যবহারকারীর তালিকা করুন। এবার এদের কার্যক্রম খুঁটিয়ে দেখার চেষ্টা করুন এরা কীভাবে সফল হলেন?

ছয়. সময় উল্লেখ করে কাজের পরিকল্পনা করা একটা খুব ভালো গুণ। সব সময় হয়তো একদম ঠিক ঠিক মিলবে না। তবে আপনি আগের চেয়ে সহজেই অনেক সময়ানুবর্তী হতে পারবেন।

সাত. গড়িমসি এড়ানো খুব দরকার। ভালো অভ্যাস গড়ে ওঠার একটা বড় বাধা এই গড়িমসি। প্রথম প্রথম কয়েক দিন খুব রুটিন মেনে চলা, ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দেওয়া ইত্যাদি খুব হয়। তারপর শুরু হয় গড়িমসি। ফলে সাবধান।

আট. মনোবল, আত্মবিশ্বাস কিংবা জেদ না থাকলে সময় মানা খুব কঠিন। মাঝে মাঝেই নানা কারণে হাল ছেড়ে দিতে মন চাইবে। কিন্তু মনোবল হারালে চলবে না।

নয়. সময় মেনে চলতে মানসিক শক্তির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতাও দরকার। নিয়মিত ব্যয়াম করুন। কাজে উদ্যম পাবেন।

দশ. ডায়েরি লেখার অভ্যাস থাকলে খুব ভালো। লিখে রাখুন সারাদিনের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো। কিছুদিন পরেই লিখে ফেলা পৃষ্ঠাগুলো গবেষণার উপাদান হয়ে দাঁড়াবে। খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতে পারবেন কোথায় কোথায় সময় মেনে চলতে পারেননি, কেন পারেননি?

এগারো. গুরুত্বপূর্ণ কাজের ক্ষেত্রে মোবাইল ফোনের অ্যালার্ম অপশন ব্যবহার করতে পারেন। এতে ভুলে যাওয়ার হাত থেকে যেমন রক্ষা পাবেন, তেমনি প্রস্তুতি নেওয়ারও সময় পাবেন।

বারো. খেয়াল রাখুন কোথায় সময় নষ্ট হয়, হোক অল্প সময়, কিন্তু নষ্ট হয়। যেমনÑ ট্রাফিক জ্যাম, অন্যান্য যাতায়াত, কারও জন্য অপেক্ষা, লিফটের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা, ডাক্তারের চেম্বারে সিরিয়ালের জন্য অপেক্ষা ইত্যাদি নানা স্থানে অনেক সময় আমাদের নষ্ট হয়। ভাবুন এই সময়ে কী করলে সময়টা ভালো ব্যবহার হবে। হতে পারে বই পড়া, দ্রুত মেইল চেক করা, কিছু ফোন সেরে ফেলা ইত্যাদি নানা কাজ। এভাবে সময়ের সর্বোচ্চ ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। 

তেরো. একসঙ্গে একাধিক কাজ করার ক্ষেত্র বাছাই করুন। ধরুন, আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গেলেন, পাশেই শপিং মল বা বাজার। ফলে ফেরার সময় বাসার জন্য টুকিটাকি বাজারটাও একবারে সেরে ফেললেন।

চৌদ্দ. সব কাজ আপনি কখনো শেষ করতে পারবেন না। তাই গুরুত্ব অনুযায়ী কাজ সাজাতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ সবার আগে শেষ করতে হবে। নইলে বিপদ।

পনেরো. সব কাজ নিজে করতে যাবেন না। সময় মতো সামলাতে পারবেন কী পরিমাণ কাজ, তার হিসাব নিজেকে বুঝতে হবে।

ষোলো. প্রত্যেক কাজের জন্যই সময় নির্ধারণ করুন এবং এই সময় মেনে চলার চেষ্টা করুন। প্রাথমিক দিনগুলোতে নোট নিনÑ কোথায় মেনে চলতে পারলেন আর কোথায় পারলেন না। আপনার অগ্রগতি বুঝতে পারবেন।

সতেরো. প্রতিদিন সকালে অথবা আগের দিন রাতে ৩০ মিনিট সময় ব্যয় করুন দৈনিক কাজের রুটিন ফাইনাল করতে।

আঠারো. হঠাৎ উৎসাহের বশে আপনার নির্ধারিত রুটিন পরিবর্তন করবেন না। রুটিন পরিকল্পনা করার সময় যতটা সম্ভব ভাবুন। কিন্তু একবার রুটিন ফাইনাল করে ফেললে সহসা পাল্টানোর চেষ্টা না করাই ভালো।

উনিশ. গুরুত্বপূর্ণ কাজের সময় ফোন বন্ধ বা সাইলেন্ট রাখুন। যথাসময়ে কাজ শেষ করতে কাজে বিঘœকারী এইসব বিষয় খেয়াল রাখুন।

বিশ. মাঝে মাঝে (বছরে অন্তত একবার) পজিটিভ এটিচুড কিংবা উৎসাহ-উদ্দীপক (মোটিভেশনাল) প্রশিক্ষণে অংশ নিন। ভালো অভ্যাস ধরে রাখতে চাই নিরলস পরিচর্যা। লেখক : প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, বিয়ন্ড ইনস্টিটিউট অব ট্রেনিং অ্যান্ড কনসালট্যান্সি এবং ব্যবস্থাপনাবিষয়ক লেখক ও প্রশিক্ষক

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত