ধর্ষণের অভিযোগে আবার কারাগা‌রে মেয়‌রপুত্র

আপডেট : ১১ জুলাই ২০১৯, ০৪:০৫ পিএম

জাজিরা উপজেলা সদরের একটি স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে জাজিরা পৌরসভার মেয়র ইউনুছ ব্যাপারীর ছেলে মাসুদ ব্যাপারীকে আবার কারাগা‌রে পা‌ঠি‌য়ে‌ছে আদালত। বৃহস্প‌তিবার দুপু‌রে শরীয়তপুর আদাল‌তে হা‌জির হ‌লে তা‌কে জা‌মিন নামঞ্জুর ক‌রে কারাগারে পাঠান জেলা ও দায়রা জজ প্রশান্ত কুমার বিশ্বাস। 

এর আগে আট দিন কারাগা‌রে থাকার পর গত সোমবার বিকেলে তিনি জামিনে মুক্ত হন। তা‌কে জামিন দেওয়ায় বুধবার শরীয়তপুর জেলা প্রশাস‌কের কার্যাল‌য়ের সাম‌নে জেলার বি‌ভিন্ন সংগঠন, এন‌জিও এবং শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন ক‌রেন।

পুলিশ জানায়, গত ২৯ জুন রাতে জাজিরার একটি স্কুল এন্ড কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের শিকার হয়। জাজিরার মুলনা ইউনিয়নে তাদের বাড়ি। সে পড়ালেখার পাশাপাশি স্থানীয় একটি রোগনির্ণয় কেন্দ্রে কাজ করেন। জাজিরা পৌর এলাকার আক্কেল মাহমুদ মুন্সিকান্দি মহল্লার বাসিন্দা মাসুদ ব্যাপারী (৩১) তাদের দুঃসম্পর্কের আত্মীয়।

২৯ জুন বিকেলে মাসুদ তার স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করার কথা বলে ওই ছাত্রীকে বাড়িতে আসতে বলেন। ওই ছাত্রী রোগনির্ণয় কেন্দ্রের কাজ শেষ করে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মাসুদের বাড়িতে যায়। সেখানে মাসুদের পরিবারের কাউকে না দেখে ওই ছাত্রী ফিরে আসার চেষ্টা করেন। তখন মাসুদ তাকে ঘরে আটকে রাখেন। এর পর দুদফা ধর্ষণ করা হয়। 

ধর্ষণের পর শ্বাসরোধ করে ওই ছাত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ওই ছাত্রী ওখান থেকে ছুটে পালায়। মাসুদের বাড়ির থেকে বের হয়ে চিৎকার করলে ওই মহল্লার কয়েকজন নারী তাকে উদ্ধার করেন। তার পরিবারের সদস্যরা রাত ১০টার দিকে তাকে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা করান। রাতেই তাকে বাড়ি নেওয়া হয়। ৩০ জুন দুপুরে জাজিরা থানায় মাসুদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা দায়ের করেন ওই ছাত্রী।

১ জুন আদালতের মাধ্যমে মাসুদ ব্যাপারীকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। ৭ জুন তার জামিনের আবেদন করা হয় শরীয়তপুর জেলা আমলি আদালতে। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আমলি আদালতের বিচারক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন জামিন ও রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করেন। আসামি পক্ষের আইনজীবী জয়নব আক্তার ইতি পর দিন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মিসআপিল করেন। তিনি ওই দিনই আরেক আবেদনে আসামির জামিন আবেদন করেন। জেলা ও দায়রা জজের দায়িত্বে থাকা অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মরিয়ম মুন মঞ্জুরী জামিন মঞ্জুর করে তিন দি‌নের জন্য আসামিকে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার আদেশ দেন।

তিন দিন জামি‌নে থাকার পর বৃহস্প‌তিবার দুপু‌রে মাসুদ ব্যাপা‌রী আদাল‌তে হা‌জির হলে শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ তা‌কে জা‌মিন নামঞ্জুর ক‌রে কারাগা‌রে পাঠা‌নোর নি‌র্দেশ দেন।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রী বলেন, মাসুদ আমার আত্মীয় হয়। তারপরও ধর্ষণ করতে পিছপা হয়নি। আমি তার পায়ে ধরে কেঁদেছি, তারপরও রেহাই পাইনি। মাসুদ মুক্ত হওয়ার পর চাপে ছিলাম। তা‌কে আবার কারাগা‌রে দি‌য়ে‌ছে শুনলাম। আমি ওর দৃষ্টান্তমূলক শা‌স্তি হি‌সে‌বে ফাঁ‌সি চাই।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মির্জা হযরত আলী বলেন, রাষ্টপক্ষ আসামিকে জামিন দেওয়ার বিরোধিতা করেছে। কিন্তু আদালত তা আমলে নেয়নি। তখন আদালতের কাছে রাষ্ট্রপক্ষ অসহায় হয়ে পড়েছে। এভাবে গুরুতর অপরাধের মামলার আসামিকে দ্রুত সময়ে জামিন দেওয়া হলে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দেয়। প‌রে বৃহস্প‌তিবার মাসুদ দায়রা ও জজ আদাল‌তে হা‌জির হ‌লে বিচারক তা‌কে জা‌মিন দেয়‌নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত