ভারতের আবহাওয়া কি চরমভাবাপন্ন হচ্ছে

আপডেট : ১২ জুলাই ২০১৯, ১২:৫৩ এএম

ভারতের বাণিজ্যিক রাজধানী মুম্বাইয়ে কয়েক সপ্তাহের অস্বাভাবিক প্রবল বর্ষণ এবং অন্যত্র মারাত্মক খরায় দেশটিতে আবহাওয়ার অস্বাভাবিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাচ্ছে কি না, সে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বন্যা ও খরার বিভিন্ন উপাত্তের সাপেক্ষে বিষয়টি যাচাইয়ের চেষ্টা করেছে বিবিসি।

ভারত প্রয়োজনীয় পানির সিংহভাগের জন্য বর্ষার মৌসুমে প্রবল বর্ষণের ওপর নির্ভরশীল। দেশটির বিভিন্ন অংশে বিভিন্ন সময়ে বৃষ্টিপাত হয়। বৃষ্টি শুরুতে বা দেরিতে হলে কৃষকদের চরম পরিণতি বরণ করতে হয়। অস্বাভাবিক ভারী বর্ষণে নগর এলাকার জীবনযাপন চরমভাবে বিঘিœত হয়। গত কয়েক দিনে মুম্বাইয়ে এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। অঞ্চলটিতে বন্যার কারণে কমপক্ষে ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। নগরের শীর্ষ বেসামরিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান অবকাঠামো অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

ভারতে মৌসুমি বৃষ্টিপাত পর্যবেক্ষণকারী ৩৬টি আবহাওয়া অফিসের বার্ষিক উপাত্ত থেকে আবহাওয়ার কোনো স্পষ্ট ধরন পাওয়া যায়নি। বৃষ্টিপাতের মাত্রা আগে থেকে বলা যাচ্ছে না। সেটি অস্বাভাবিক। তবে ২০০২ সাল থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন হিসাবে মৌসুমি বৃষ্টিপাত প্রবল হওয়ার আলামত পাওয়া যায়নি।

জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০০৬ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ১০ বছরে মারাত্মক বন্যা হয়েছে ৯০টি। এগুলোতে প্রায় ১৬ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়। আগের দশকে ৬৭টি বন্যা হয়েছিল, যাতে প্রাণ হারিয়েছে ১৩ হাজার ৬০০ মানুষ। এক দশকে বন্যার সংখ্যা বাড়লেও দুই দশকে বড় কোনো পরিবর্তন দেখা যায়নি।

এদিকে মুম্বাইয়ে ভারী বর্ষণ ও বন্যা হলেও দেশের বেশির ভাগ অংশে আবহাওয়া খুবই শুষ্ক। বৃষ্টিপাতে দেরি হওয়ায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর চেন্নাইয়ে ব্যাপক পানির সংকট দেখা দেয়। এ ছাড়া দেশটির বিভিন্ন প্রান্তে তাপপ্রবাহ দেখা গেছে। জুনে কোথাও কোথাও তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসকেও ছাড়িয়ে গেছে। মোটের ওপর ভারতে ৪৪ শতাংশ ভূমি খরার আওতায় আছে, যা গত বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি।

কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা দুই দিন ধরে স্বাভাবিকের চেয়ে কমপক্ষে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হলে দাবদাহ ধরা হয়। ১৯৮০ থেকে ১৯৯৯ সাল পর্যন্ত ২১৩টি দাবদাহ হয় ভারতে। অন্যদিকে ২০০০ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত দেশটিতে ১ হাজার ৪০০ তাপপ্রবাহ দেখা যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত