চন্দ্রাভিযান নিয়ে অতটা উৎসাহী ছিলেন না যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জন এফ কেনেডি। কিন্তু তারপরও তার হাত দিয়েই চন্দ্রাভিযানের মতো ব্যয়বহুল প্রকল্পের জন্য ২ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের অনুমোদন হয়েছিল। ১৯৬২ সালে হোয়াইট হাউজের এক ব্যক্তিগত বৈঠকে তৎকালীন নাসাপ্রধান জেমস ওয়েবকে কেনেডি বলেছিলেন, ‘আমি মহাশূন্য সম্পর্কে আগ্রহী না। আমার মনে হয় এ বিষয়ে আমাদের জানা উচিত। আর তাই এই অভিযানে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ ব্যয়েরও সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যা আমাদের বাজেটকে ধ্বংস করে দিতে পারে।’
অনাগ্রহ নিয়েও কেনেডি ওই বাজেট অনুমোদন করেছিলেন। আর এর অন্যতম কারণ তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নকে মহাকাশ দৌড়ে পেছনে ফেলা। তার ভাষ্যেই উঠে আসে বাস্তবতা, ‘আমার মতে, এই সময়ে এটা করা হচ্ছে কারণ আমরা আশা করি তাদের (সোভিয়েত ইউনিয়ন) পরাজিত করতে পারব।’
তৎকালীন সময়ে চন্দ্রাভিযানের পেছনে যে অর্থ ব্যয় করা হয়েছিল, আজকের বাজারে তার পরিমাণ প্রায় ১৭ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। ১৯৬৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের মোট ব্যয়ের ৫ শতাংশ বরাদ্দ ছিল নাসার জন্য, আজ তা ১০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই বিপুল অঙ্কের অর্থ রকেট, মহাকাশযান, কম্পিউটার, ভূ-নিয়ন্ত্রণ ও মাত্র ১২ জনকে চাঁদে পাঠাতে ৪০ হাজার মানুষের পেছনে ব্যয় করা হয়।
ওয়াশিংটন ডিসির ন্যাশনাল এয়ার অ্যান্ড স্পেস মিউজিয়াম ও স্পেস পলিসি জার্নালের রজার লনিয়াসের প্রকাশিত তথ্যানুসারে, তৎকালীন সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণ চন্দ্রাভিযানের পেছনে ওই পরিমাণ ব্যয়ের পক্ষে ছিলেন না। এমনকি ১৯৬১ সালেও মহাকাশে সোভিয়েত দৌরাত্ম্যের মধ্যেও অ্যাপোলো অভিযানের পেছনে বিনিয়োগকে ভালো চোখে দেখেননি অধিকাংশ মার্কিনিরা।
১৯৬৭ সালের জানুয়ারিতে অ্যাপোলো ওয়ানের উৎক্ষেপণ হয়। ওই উৎক্ষেপণের সময় লঞ্চপ্যাড দুর্ঘটনায় তিন মহাকাশচারী নিহত হয়। এরপর ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ উৎক্ষেপণ করা হয়। এর নয় মাস পর অ্যাপোলো ১৩-এর দুর্ঘটনা ঘটে।
অ্যাপোলো ১৭ মিশন থেকে জিন কার্মান ও হ্যারিসন শ্মিট যখন চাঁদের মাটিতে পা ফেলেন তখন ৬০ শতাংশ আমেরিকান মনে করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র মহাশূন্যের পেছনে অধিক অর্থ ব্যয় করছে। তখন জনরোষের চাপে মহাশূন্যের বেশকিছু প্রকল্প বাতিল করতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
