উন্নয়ন ধরে রাখতে জনসমর্থন দরকার : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০২:৪১ এএম

উন্নয়নশীল দেশের স্বীকৃতি ধরে রাখতে জনগণের সমর্থন, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করার দিকে নজর দিতে নেতাদের নির্দেশ দেন আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলকে শক্তিশালী করতে আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের আরও সক্রিয় হতে  বলেন দলীয় প্রধান।

গতকাল শুক্রবার বিকেলে গণভবনে আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় তিনি এই নির্দেশ দেন। এ ছাড়া  বন্যা এবং

প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকারের পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের জনগণের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দেন তিনি। শেখ হাসিনা বলেন, দেশের উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত রেখেছি। এই ১০ বছরে হোঁচট খাইনি কিংবা পিছিয়ে যাইনি, আবার হঠাৎ করে লাফও দিইনি। দলীয় সভাপতি বলেন, আগামী দিনে দেশকে কোথায় নিয়ে

যাব সে পরিকল্পনাও আছে এবং সেটা ইতিমধ্যেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সেই প্রস্তুতিটা আমাদের নিতে হবে। সেই পথগুলো আমাদের ধাপে ধাপে এগিয়ে যেতে হবে। বাধাগুলো অতিক্রম করতে হবে। আর সেই জন্যই  বেশি প্রয়োজন সাংগঠনিকভাবে আমাদের দলকে যেমন শক্তিশালী করা, তেমনি জনমত সৃষ্টি করা।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের চলার পথ কিন্তু খুব সহজ ছিল তা না। প্রতি পদে পদে বাধা। অগ্নিসন্ত্রাস, খুন, নির্যাতন অনেক কিছু সহ্য করতে হয়েছে। তারপরও আমরা কিন্তু এগিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছি।

সরকারের সমালোচনাকারীদের নিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এটাও ঠিক যে আমাদের দেশে কিছু লোক থাকেই যাদের কোনো কিছুই ভালো লাগে না। এই যে আমরা অর্থনৈতিকভাবে যতদূরই আগাই কিছু লোক সব সময় এটাকে ভিন্ন একটা চোখে দেখার অভ্যাস। এরা আসলে কখনো গণতান্ত্রিক ধারাটা চায় না। গণতান্ত্রিক ধারাটা হলে আমার মনে হয় যেন, তাদের মনে হয় দমবন্ধ, তারা মনে হয় নিঃশ্বাস নিতে পারে নাÑ এ রকম একটা ভাব তাদের। দেশে ‘অস্বাভাবিক একটা অবস্থা’ থাকলে তাদের ‘খুব দাম বাড়ে’ বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কাজেই দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াটা অব্যাহত থাকুক সেটাই আমরা চাই।

আওয়ামী লীগ উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, উপদেষ্টারা থিংক ট্যাংকের মতো। আমি চাইব আপনারা সক্রিয় হোন। আমাদের অফিস, সব ব্যবস্থা কিন্তু আছে। প্রত্যেকটা বিষয়ের উপকমিটিও করা আছে। আপনারা অনেকে বসেন, মিটিং করেন,  সেমিনার করেন, সেগুলো অব্যাহত রাখতে হবে এবং ভবিষ্যতের জন্য পরিকল্পনাগুলো নিতে হবে।

সর্বশক্তি দিয়ে বন্যাদুর্গতদের পাশে দাঁড়াতে নেতাকর্মীদের  আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি ও দুর্গত বিষয়ে সরকার দৃষ্টি রাখছে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদেরও এ নিয়ে সজাগ ও সচেতন হতে হবে।

বিএনপির শাসনামলে বন্যায় মানুষের মৃত্যুর ঘটনা উল্লেখ করে খালেদা জিয়া সরকারের সমালোচনা করেন শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, মানুষের বিপদে তাদের পাশে দাঁড়ানো, মানুষের কল্যাণে এবং উন্নয়নে কাজ করাই আওয়ামী লীগের নীতি। জাতির পিতার হাতে গড়া এ দলের হাত ধরেই স্বাধীনতা এসেছে। সেই দলকে সুসংগঠিত করে স্বাধীনতার সুফল প্রত্যেক মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছাব। এই দেশটা হবে সার্বিকভাবে একটা উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ।

বৈঠকে উপদেষ্টা পরিষদের সদস্যদের মধ্যে আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, আবুল মাল আবদুল মুহিত, এইচ টি ইমাম, সভাপতিম-লীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম, মতিয়া  চৌধুরী, আব্দুর রাজ্জাক, পীযূষ ভট্টাচার্য, সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান, সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, কার্যনির্বাহী সদস্য এস এম কামাল হোসেন, আমিরুল আলম মিলন, ইকবাল হোসেন অপু, এ বি এম রিয়াজুল কবির কাওছার, মারুফা আক্তার পপিসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত