জটিলতা কমাতে বিদেশগামী কর্মীদের স্মার্ট কার্ড প্রদান ও বহির্গমন ছাড়পত্র জেলা পর্যায় থেকে দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে প্রবাসী কর্মীদের সব কাজ সুষ্ঠুভাবে করা সম্ভব হবে। আগামীকাল রবিবার শুরু হতে যাওয়া এ বছরের জেলা প্রশাসক সম্মেলন সামনে রেখে এই প্রস্তাব দিয়েছেন রাঙ্গামটির জেলা প্রশাসক এ কে এম মামুনুর রশীদ। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
রবিবার সকালে নিজ কার্যালয়ে পাঁচ দিনব্যাপী এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবারের সম্মেলনে ২৪টি কার্য অধিবেশনে ৩৩৩টি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হবে। প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হবে মঙ্গলবার।
জানা গেছে, প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সুনির্দিষ্ট চারটি প্রস্তাবের ওপর আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মিজানুর রহমান বিদেশগামী কর্মীদের দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জেলার ত্রিশাল উপজেলায় একটি সরকারি কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের সুপারিশ করেছেন। এ ছাড়া নওগাঁ ও বাগেরহাট জেলা প্রশাসক নিজ নিজ জেলায় জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর অফিস স্থাপনের সুপারিশ করেছেন। এতে বলা হয়েছে, নওগাঁ ও বাগেরহাট জেলায় কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র না থাকায় বিদেশ গমনেচ্ছু ব্যক্তিদের কাক্সিক্ষত সেবা প্রাপ্তিতে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পাশাপাশি প্রবাসী ব্যক্তিদের ডেটাবেইস তৈরির কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
খুলনার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন জেলায় অবস্থিত কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসের কেনা নিজস্ব জায়গায় বহুতল ভবন নির্মাণের সুপারিশ করেছেন। সুপারিশে বলা হয়েছে, নিজস্ব জমিতে বহুতল ভবন নির্মিত হলে জেলা অফিসসহ আইটি সেন্টার, ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাবরেটরি স্থাপন, অভিবাসী কর্মীদের নিবন্ধন, ফিঙ্গার ইম্প্রেশন সেবা প্রদান, অভিবাসন স্মার্ট কার্ড প্রদান, বিমানের টিকিট সুবিধা, প্রবাসীকল্যাণ ব্যাংকসহ বিদেশগামীদের সব সেবা একই স্থানে স্বচ্ছতার সঙ্গে দেওয়া সম্ভব। এ ছাড়া প্রবাসীদের সব সেবা একত্র করে অভিবাসন ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করা হলে জেলার অভিবাসন কার্যক্রম আরও গতিশীল ও আধুনিক হবে।
প্রতি বছর তিন দিনব্যাপী এ সম্মেলনের মধ্য দিয়ে দেশের মাঠপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা তথা ৬৪ জেলার ডিসিদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় করে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দিয়ে আসছিলেন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের নীতিনির্ধারকরা। তবে এবার ডিসি সম্মেলনের সময় দুদিন বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো প্রধান বিচারপতি, স্পিকার ও তিন বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গেও ডিসিদের বৈঠক হবে। ১৫ জুলাই সন্ধ্যায় বঙ্গভবনে ডিসিদের দিকনির্দেশনা দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। ১৬ জুলাই বিকেলে সুপ্রিম কোর্ট জাজেস লাউঞ্জে প্রধান বিচারপতিদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন ডিসিরা। এ ছাড়া ১৮ জুলাই সমাপনী দিন বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে ডিসিরা সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। এবারের সম্মেলনের জন্য ৩৩৩টি সুপারিশ জমা পড়েছে বলে জানান মন্ত্রী পরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম। গতবারের সম্মেলনে নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে ৯২ দশমিক ৯০ শতাংশ বাস্তবায়িত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
