ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ার কারণ হিসেবে শিক্ষার অভাবকে দায়ী করা হয়েছে নারায়ণগঞ্জে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায়।
সম্প্রতি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি বৃদ্ধি, ধর্ষণসহ নারী নিপীড়নের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে একে এখনই রুখে দাঁড়াতে সবার সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন বলে মত দিয়েছেন নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ।
শনিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জে অনলাইন নিউজ পোর্টাল নিউজ নারায়ণগঞ্জ আয়োজিত ‘যৌন হয়নারী বৃদ্ধি, প্রতিকার ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে উঠে আসে এসব বক্তব্য।
সভায় জেলা মহিলা সংস্থার সচিব কামরুজ্জামান মিতালী কম শিক্ষিতরা যৌন নীপিড়ন ও ধর্ষণে বেশি যুক্ত বলে দাবি করেন।
তিনি বলেন, বিদ্যালয়গুলোর যে কমিটি হচ্ছে তাতে একজন মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষক থাকলে তার কমিটির সভাপতি থাকছে আন্ডার মেট্রিক (এসএসসি পাসের নিচে)। এসব লোকদের দ্বারাই মেয়েরা যৌন হয়রানীর শিকার হচ্ছে। তাই এখানে পরিবর্তন আনতে হবে। শিক্ষিতদের কমিটিতে রাখতে হবে।
নিউজ নারায়ণগঞ্জ টুয়েন্টিফোরের এডিটর ইন চিফ শাহজাহান শামীমের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মর্গ্যান বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা পর্ষদের সভাপতি আনোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল, নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রুমন রেজা, আমরা নারায়ণগঞ্জবাসীর সভাপতি হাজী নুরুদ্দিন, জাতীয় মহিলা সংস্থার সচিব কামরুন্নেছা মিতালী, সময়ের নারায়ণগঞ্জের সম্পাদক জাবেদ আহমেদ জুয়েল, আলোকিত বাংলাদেশের জেলা প্রতিনিধি শরীফ সুমন।
আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কাছ থেকে সুস্থ বিনোদন সরে গেছে। সিনেমা নাটকে শিক্ষণীয় বিষয়ের চেয়ে যৌন উত্তেজনা তৈরি করা হয়। শিক্ষকেরা যেসব ছাত্রীদের ধর্ষণ করে সেগুলোর অধিকাংশই কোচিংয়ে এ হয়। এ সব কোচিংয়ে সরকার ও প্রশাসনের যাতে নজর থাকে সেই প্রত্যাশা কামনা করছি।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুবাস চন্দ্র সাহা বলেছেন, আমাদের জেলা প্রশাসনের শিক্ষা ও আইসিটি বিভাগকে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। ছাত্রছাত্রীদের কাছে মেসেজ পৌঁছে দিতে হবে যাতে তারা নির্ভয়ে তথ্য দিতে পারে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি হাসান ফেরদৌস জুয়েল বলেন, বর্তমানে শিশু ধর্ষিত হওয়ার কারণ হচ্ছে শিশুটির কাছে ধর্ষক সহজেই যেতে পারে। শিশুটি বুঝতে পারে না তার সঙ্গে কী হতে যাচ্ছে। ফলে শিশু ধর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটছে।
নারায়ণগঞ্জ কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি রুমন রেজা বলেছেন, কলেজ সময়ে কোচিং বন্ধ করতে হবে। ধর্ষণ মামলার বিচার প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রিতা কমিয়ে আনতে হবে।
বক্তারা বলেন, ফেসবুক ও টিভি চ্যানেলে অসুস্থ বিনোদন প্রদর্শন- এসব ধর্ষণের পেছনে দায়ী। কোচিং সেন্টারের কারণেই ধর্ষণের ঘটনা বেড়েছে।
