নীলফামারীতে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০১৯, ০৯:০৬ পিএম

নীলফামারীতে তিস্তা নদীর বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। শনিবার সকালে তিস্তা ব্যারাজ ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে জেলার ডিমলা উপজেলার পূর্বছাতনাই, খগাখড়িবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ি, খালিশা চাঁপানী, ঝুনাগাছ চাঁপানী, গয়াবাড়ি ও জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ও শৌলমারী ইউনিয়নের তিস্তা নদী বেষ্টিত ১৬টি চর গ্রামের প্রায় ২০ হাজার পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানায়, ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে গত বৃহস্পতিবার জেলায় তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পায়। সেদিন তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

শুক্রবার সকালে পানি কমে ২০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সন্ধ্যা ছয়টায় পানি বেড়ে বিপদসীমার ৪২ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে।

শনিবার ভোরে আরো ৮ সেন্টিমিটার বেড়ে সকাল ৬টা পর্যন্ত বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে সকাল ৯টা পর্যন্ত থাকে।

বেলা ১২টা থেকে  কয়েক ধাপে পানি করে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

নদীর পানি  কয়েক  কিছুটা কমলেও বিপদসীমার ৪৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। ওই পয়েন্টে নদীর পানির বিপদসীমা ৫২ মিটার ৬০ সেন্টিমিটার।

 

শনিবার সরেজমিনে তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে গিয়ে দেখা গেছে ব্যারাজের সব (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন পাউবোর কর্মকর্তারা। সেখানে জানমাল রক্ষায় এলাকায় টহলরত আছেন ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার দলের সদস্যরা।

ব্যারাজ সংলগ্ন জেলার ডিমলা উপজেলার খালিশাচাপানী ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামে গিয়ে দেখা যায় তিস্তার বাধে অবস্থান করছেন ওই গ্রামের শতাধিক নারী পুরুষ ও শিশু। বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় অনেকে নৌকা যোগে বাধে এসে আশ্রয় নিচ্ছেন।

ডিমলা উপজেলার খলিশাচাপানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়নের ছোটখাতা গ্রামে ৪৫০ পরিবার বন্যা কবলিত হয়ে পড়েছে। অপরদিকে পশ্চিম বাইশপুকুর গ্রামে স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বাঁধটি শুক্রবার রাতে বিধ্বস্ত হয়ে সেখানে প্রায় ৫৫০ পরিবার পানি বন্দী হয়েছে।’

তিনি জানান, ‘শুক্রবার রাতে পূর্ব বাইশপুকুর গ্রামে বন্যার পানিতে ভেসে আসা সাপের দংশনে ওই গ্রামের মোর্শেদা বেগম (৪৫) নামে এক গৃহবধূ মারা গেছেন।’

একই উপজেলার টেপাখড়িবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ময়নুল হক বলেন, ‘ইউনিয়নের চরখড়িবাড়ি ও পূর্বখড়িবাড়ি গ্রাম প্লাবিত হয়ে দুই হাজার পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। পানির তোরে চরখড়িবাড়ি গ্রামের স্বেচ্ছাশ্রমে নির্মিত বালুর বাঁধটি হুমকির মুখে রয়েছে। এলাকাবাসী রাত জেগে ওই বাধটি রক্ষার চেষ্টায় সতর্ক ছিলেন।’

পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ খান বলেন, ‘আমার ইউনিয়নে ৯০০ পরিবার পানিবন্দী রয়েছে। সরকারিভাবে একশত প্যাকেট শুকনা খাবার বরাদ্দ পেয়েছি, কিন্তু এখনও হাতে পাইনি।’

পানি উন্নয়ন বোর্ড নীলফামারীর ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রবিউল ইসলাম বলেন, ‘তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। শুক্রবার রাত থেকে আজ (শনিবার) সকাল ৬টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর পানি বিপদসীমার ৫০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।’

‘শনিবার বেলা ১২টা থেকে পানি কমতে শুরু করে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত বিপদসীমার ৩০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তিস্তা ব্যারেজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রেখে সতর্কাবস্থায় পরিস্থিতি মোকাবিলা করা হচ্ছে।’

তিনি জানান, এর আগে ২০১৭ সালের তিস্তার পানি বিপদসীমার ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল।

নীলফামারীর ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মো. শাহিনুর আলম জানান, বন্যা কবলিতদের জন্য শনিবার দেড় শত মেট্রিক টন চাল, দেড় হাজার প্যাকেট শুকনা খাবার ও দুই লাখ টাকা  বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত