মাগুরায় ধর্ষণ মামলার আসামি এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেপ্তারে অভিযানে গিয়ে উল্টো ওই ছাত্রলীগ নেতার পিটুনিতে আহত হয়েছেন দুই পুলিশ কর্মকর্তা। গতকাল শনিবার দুপুরে মাগুরা শহরের আদর্শ কলেজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত দুই পুলিশ কর্মকর্তা হলেন মাগুরা সদর থানার এসআই পারভেজ আহমেদ এবং এসআই মাসুম। তারা মাগুরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। পুলিশ কর্মকর্তাদের মারধর করা ধর্ষণ
মামলার আসামি মাগুরা আদর্শ কলেজ শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রুবেল হোসেনকে (২২) হামলার পর অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গ্রেপ্তার করে। মারধরের শিকার এসআই পারভেজ আহমেদ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা দেশ রূপান্তরকে জানান, সদর থানার একটি ধর্ষণ মামলার আসামি রুবেল হোসেন। সে মাগুরা শহরের দোয়ারপাড় কারিকরপাড়ার জামির মোল্লার ছেলে। রুবেল আদর্শ কলেজের পাশে চক্ষু হাসপাতালের সামনে একটি চায়ের দোকানে অবস্থান করছেÑ এমন খবর পেয়ে তাকে ধরতে এসআই পারভেজ ও এসআই মাসুম সেখানে যান। এসআই মাসুম প্রথমে রুবেলকে ধরতে এগিয়ে গেলে সে পাশের ধানক্ষেতের কাদাপানির মধ্যে দৌড় দেয়। এসআই মাসুমও তাকে অনুসরণ করে ওই ক্ষেতের মধ্যে গেলে রুবেল এসআই মাসুমকে মারধর করতে থাকে। এ সময় এসআই পারভেজও ধানক্ষেতে নেমে রুবেলকে ধরতে যান। তখন রুবেল এসআই পারভেজকেও কিল, ঘুষি ও লাথি মারতে থাকে। এরই একপর্যায়ে খবর পেয়ে সদর থানার একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্য ঘটনাস্থলে গিয়ে রুবেলকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
যশোরে শ্লীলতাহানির অভিযোগে আ.লীগ নেতার কারাদণ্ড : যশোরের কেশবপুরে দ্বিতীয় শ্রেণির এক ছাত্রীকে শ্লীলতাহানি চেষ্টার অভিযোগে আওয়ামী লীগ নেতাকে এক বছরের কারাদণ্ডাদেশ দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ড পাওয়া আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল লতিফ গাজীকে (৪৭) গতকাল শনিবার সকালে পুলিশ কারাগারে পাঠায়। সে কেশবপুরের সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর বেগমপুর ওয়ার্ড শাখার সাবেক সাধারণ সম্পাদক।
কেশবপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহজাহান আহমেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সাতবাড়িয়া ইউনিয়নের কড়িয়াখালী গ্রামের নয় বছর বয়সী এক শিশু স্থানীয় কড়িয়াখালি বাজারে তার বাবার কাছে আসে। বাবা একটি ছাতা কিনে শিশুটির হাতে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেন। বাড়ি ফেরার পথে একই গ্রামের রজব গাজীর ছেলে লতিফ গাজী শিশুটিকে পাশের একটি দোকানের পেছনে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। মেয়েটি বাড়িতে ফিরে এ কথা তার মাকে জানায়। বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার সন্ধ্যায় ওই ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য কামরুজ্জামান টিটো স্থানীয়ভাবে সালিসের আয়োজন করেন। মেয়েটি সালিসে উপস্থিত সবার সামনে ঘটনাটির বর্ণনা করে। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিশুকে শ্লীলতাহানি এবং সালিসে সমঝোতা চেষ্টার বিষয়টি জানতে পেরে কেশবপুর থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেন। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার রাতেই আবদুল লতিফ গাজীকে আটক করে পুলিশ। পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে লতিফ গাজীকে এক বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। লতিফ গাজীকে শনিবার সকালে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয় বলেও জানান পুলিশ কর্মকর্তা শাহজাহান আহমেদ।
