ভারী বর্ষণ ও নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় দিনাজপুরের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। জেলার সদর, বিরল, খানসামা ও চিরিরবন্দরের বেশ কয়েকটি এলাকার কয়েক’শ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় আছে।
সোমবার সরেজমিন দেখা যায়, সদর উপজেলার পুনর্ভবা নদীর ধারে হিজরা পল্লীর কিছু অংশ এবং বিরল উপজেলার ফরাক্কাবাদ ইউনিয়নের চক কাঞ্চন নতুন পাড়ার কয়েক’শ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।
এছাড়াও খানসামা উপজেলার আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে উপজেলার খামারপাড়া ইউনিয়নের নেউলা গ্রামের কয়েক’শ পরিবার পানিতে তলিয়ে গেছে।

অপরদিকে জেলার চিরিরবন্দর উপজেলায় আত্রাই নদী ও কাকড়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে কয়েক’শ পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। অনেক এলাকায় পারাপারের জন্য ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদ থেকে দেওয়া হয়েছে নৌকা। নৌকায় করে মানুষ, গরু-ছাগল ইত্যাদি নিরাপদ স্থানে নেওয়া হচ্ছে।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, পুনর্ভবা ও আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার কাছাকাছি অবস্থান করছে। গতকাল থেকে দুই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় আশপাশের নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এসব এলাকা তলিয়ে গেছে বলে জানান পানি উন্নয়ন বোর্ড।
বিরল উপজেলার চক কাঞ্চন নতুন পাড়া গ্রামের মো. হামিদুল ইসলাম বলেন, ‘গতকাল (রবিবার) থেকে পূনর্ভবা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় আমরা প্রায় দেড় শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছি। বেলা বাড়ার সাথে সাথে নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়ি ঘরের অর্ধেকের উপর পানি উঠেছে। এমন অবস্থায় আমরা কেউ ঘরে থাকতে পারছি না। সবাই উচু জায়গায়, ব্রিজে আশ্রয় গ্রহণ করেছি।

খানসামা উপজেলার মো. জিন্নাত হোসেন জানান, আত্রাই নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নেউলা গ্রামের অনেকাংশ পানিতে তলিয়ে গেছে। পানিবন্দি অবস্থায় মানুষ খাদ্য সংকটে পড়েছে।
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বন্যা কবলিত এলাকার জন্য জরুরি সেবা প্রদানের জন্য সেল গঠন করা হয়েছে।
দিনাজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নিবার্হী প্রকৌশলী মো. ফয়জার রহমান বলেন, ‘দিনাজপুর শহর বাদ রক্ষার জন্য আমরা গতকাল থেকে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। যাতে শহরের কোনভাবেই পানি প্রবেশ করতে না পারে। বর্তমানে পুর্নভবা ও আত্রাই নদীর পানি বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পুনর্ভবা নদীতে আজকে (সোমবার) ৩২.২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাবিহত হচ্ছে। যার বিপদসীমা ধরা হয়েছে ৩৩.৫০ সেন্টিমিটার।
এছাড়াও আত্রাই নদীর উপর দিয়ে ৩৯.৩৭০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। যার বিপদসীমা ৩৯.৬৫০ সেন্টিমিটার। বর্তমান অবস্থায় পানি না কমলে নদীগুলো ভয়াবহ রুপ ধারণ করতে পারে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।’
