কোন পথে সুদান

আপডেট : ১৬ জুলাই ২০১৯, ১২:০১ এএম

সুদান ভেঙে দক্ষিণ সুদানের জন্মের পরেও সহিংসতা থামেনি। খনিজ সম্পদে ভরপুর দেশ সুদানে এখনো ক্ষমতা আর রাজনীতি প্রশ্নে বহুধা বিভক্তি কাজ করছে। দেশটির সেনাবাহিনী একদিকে আর জনগণ আরেক দিকে। সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরের পতন হয়। সামরিক অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে বশিরের পতনের পর দেশটি নতুন রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে পড়ে।

বশিরের পতনের পর দেশে তিন মাসের জরুরি অবস্থা জারি করা হয়। কিন্তু এই জরুরি অবস্থার মধ্যেই দেশটির স্বাধীনতাকামী জনগণ সামরিক সরকারের বদলে বেসামরিক সরকারের দাবি তোলে। এ নিয়ে দুই মাস ধরে দেশটিতে বিক্ষোভ ও রক্তক্ষয়ী সহিংস পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নীল নদের পানিতে শতাধিক সুদানির লাশ ভেসে থাকতে দেখা যায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, দেশটির সেনাবাহিনীর হাতে নিহত হয় ওই বিক্ষোভরত সুদানিরা।

বিক্ষোভের মধ্যেই সেনাবাহিনীর সঙ্গে তাদের আলোচনা চলতে থাকে। আলোচনার একপর্যায়ে চলতি মাসের শুরুতে সুদানে বেসরকারি সরকার গঠনে সম্মত হয় সামরিক সরকার। দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন সেনা কাউন্সিল ও স্বাধীনতা ও পরিবর্তনের পক্ষের বিক্ষোভকারীরা সম্মত হয় যে সাড়ে তিন বছরের জন্য দেশে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হবে। এই সরকারের কার্যনির্বাহী পদে দুই পক্ষ থেকে মোট ১১ জন সদস্য থাকবেন। এদের মধ্যে পাঁচজন বেসামরিক ও পাঁচজন সামরিক বাহিনীর। বাকি একজনকে নির্বাচিত করবেন ওই ১০ জন।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধানের দায়িত্বেও পালাবদল হবে এই সাড়ে তিন বছরে। ১৮ মাস করে ক্ষমতার শীর্ষে থাকবে দুই পক্ষ। বিক্ষোভকারীরা এই সিদ্ধান্তে আপাতত বিজয়োল্লাস করলেও বিশ্লেষকরা এই সমঝোতাকে বিক্ষোভকারীদের পরাজয় হিসেবে দেখছেন। কারণ বিক্ষোভকারীদের মূল দাবিই ছিল সরকারে বেসামরিক প্রতিনিধিদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা। সুদানের জনগণও এই দাবির পেছনে দাঁড়িয়েছিল।

সুদানের সমাজকাঠামো মূলত সমাজতান্ত্রিক। ঐতিহ্যগতভাবেই এই সমাজে সৌহার্দ্য কাজ করে, যা যুগের পর যুগ ধরে সুদানকে ঐক্যবদ্ধ রেখেছে। ইতিহাস, আধ্যাত্মিক পথ, মানবিক মূল্যবোধ, পরার্থবাদÑ এসবই সুদানি সমাজের ভিত্তি। এ কারণেই দেশটিতে স্বাধীনতা ও পরিবর্তনের ডাকে দেশবাসী একজোট বাঁধে, যা ক্রমশ সেনাবাহিনীর জন্য ভয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। খার্তুমের রাস্তায় জনগণ যখন একে একে পুরনো সব দাবিদাওয়া তুলতে শুরু করে, তখন সেনা সরকার ওই সব দাবিকে অগ্রাহ্য করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। ফলে পরিবর্তনের স্বপ্ন এখনো সুদানের জনতার মধ্যে সুপ্ত অবস্থায় রয়ে গেছে।

দেশটির জন্য এখন দুই অন্যতম চ্যালেঞ্জ। প্রথমত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়সীমা অতিক্রম করা; দ্বিতীয়ত, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরে দেশে গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। প্রথমটি নির্ভর করে অন্তর্বর্তীকালীন কাউন্সিলের ওপর। তারা দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় কতটা বদ্ধপরিকর তা নির্ভর করে এই কাউন্সিলের ওপর। ইতিমধ্যেই সেনা কাউন্সিলের কিছু সদস্য তাদের সত্যিকারের রং দেখাতে শুরু করেছে। তাদের পদক্ষেপ বলে দিচ্ছে, দীর্ঘমেয়াদের তাদের গুপ্ত পরিকল্পনা। এই সদস্যদের মধ্যে একজন মোহাম্মদ হামদান দাগলো। তিনি লিবিয়ার বিদ্রোহী জেনারেল হাফতারের সহায়তার জন্য ইতিমধ্যেই সেনা পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছেন। এ ছাড়া বিদেশি সংস্থাগুলোর পেছনে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করা হচ্ছে, আন্তর্জাতিক মহলে সুদানের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলের জন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত