ভারী বর্ষণে টইটুম্বুর রাজশাহীর ডোবা, নালা ও খাল-বিল। পানি বেড়েছে নদীতেও। সোনালি আঁশ পাট কাটতে শুরু করেছেন চাষিরা। মৌসুমের শুরুতে খাল-বিলে পানি জমায় তারা বেশ খুশি। গত বছর পাট কাটার পর জাগ দেওয়ার পানি সংকটে চাষিদের চরমদুর্ভোগ পোহাতে হলেও এবার তা থাকছে না। তাই কৃষকরা পাটের বাম্পার ফলনের আশা করছেন। আর দামে সোনালি আঁশে স্বপ্ন বুনছেন।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শামছুল হক জানান, এবার খরার কারণে রাজশাহীতে একটু দেরিতে শেষ হয় পাট বপণ। গভীর নলকূপের পানি দিয়ে কৃষকদের পাট চাষ করতে হয়। তারপরও গত বছরের তুলনায় বেশি পাট চাষ করেছেন কৃষকরা। তিনি জানান, এবার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ১৩ হাজার ৫৭৫ হেক্টর। গত বছর এই পরিমাণ জমিতে পাটের আবাদ ছিল। তবে এবারে ১৩ হাজার ৮৪০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৩০০ হেক্টর বেশি জমিতে পাট চাষ হয়েছে। তিনি আরও জানান, এখন থেকে প্রতিবছর পাটের আবাদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে। কারণ পাট চাষ অনেকটাই লাভজনক। গত বছর পাটের দাম ভালো ছিল। এবারও পাটের দাম ভালো পাবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
শামছুল হক বলেন, ‘রাজশাহীতে এরই মধ্যে আগাম জাতের পাট কাটা শুরু হয়েছে। যদিও পাট কাটা ও জাগ দেওয়া এখনো পুরোদমে শুরু হয়নি। জুলাইয়ের শেষ ভাগে রাজশাহীতে মৌসুমের পাট কাটা শুরু হবে জোরে-সোরে।’ পবা, দুর্গাপুর, বাগমারা, মোহনপুর উপজেলায় পাটের উৎপাদন অনেক ভালো। এ কারণে এই এলাকাগুলোতে বেশি পাটের চাষ হয়। মোহনপুরের পাটচাষি রাজু আহমেদ বলেন, ‘প্রতিবছর আলুর জমিতে পাট চাষ করি। এবারও করেছি। তবে অন্য বছরের তুলনায় এবার পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। এখন পর্যন্ত আগাম জাতের এক বিঘা জমির পাট কেটে জাগ দিয়েছি। দু-একদিনের মধ্যে পাট ধোয়া হবে।’
