ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর ও সরাইলে মেঘনার ভাঙনরোধে জরুরি কাজে ঠিকাদার পাচ্ছে না পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। ঠিকাদাররা কাজের লোকসানের কথা বললেও কর্তৃপক্ষ বলছে লাভের কথা মাথায় নিয়েই প্রাক্কলন বাজেট তৈরি করা হয়েছে। জরুরি কাজ শুরু না হওয়ায় এ দুটি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দুটি বাজারে ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষয়ক্ষতি বাড়ছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নাসিরনগরের ৩০০ বছরের পুরনো চাতলপাড় বাজারে কয়েক বছর ধরে মেঘনার ভাঙন চলছে।
সম্প্রতি এ ভয়াবহ ভাঙনরোধে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ড এ দুটি বাজারের মেঘনার পাড়ে প্রাথমিক প্রতিরক্ষা হিসেবে জিও ব্যাগ দিয়ে বালি ফেলার উদ্যোগ নেয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া কার্যালয় এ দুটি বাজারের জরুরি কাজ শুরু করার জন্য কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবর চিঠি দেয়। গত ৩০ জুন কুমিল্লা অফিসের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম এ দুটি বাজারের ‘কাজের জরুরি’ অবস্থা ঘোষণা করেন। জরুরি অবস্থায় চাতলপাড় বাজারের জন্য ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪ হাজার ৪২৫ বস্তা এবং পানিশ্বর বাজারে ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৬ হাজার ৬৩৮ বস্তা বালি ফেলার কথা বলা হয়। এসব জিও ব্যাগে বালি ভর্তি করে সেলাই করে নদীতে ফেলার জন্য নির্দেশনা রয়েছে। এরপর ব্রাহ্মণবাড়িয়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী গৌরপদ সূত্রধর স্থানীয় ঠিকাদারদের ডেকে জরুরি ভিত্তিতে কাজ দুটি সম্পন্ন করার অনুরোধ করেন। কিন্ত গত ১৫ দিনেও জরুরি দুটি কাজের জন্য কোনো ঠিকাদার এগিয়ে আসেননি। দুটি বাজারেই চলছে মেঘনার ভাঙন।
এ ব্যাপারে প্রকৌশলী গৌরপদ সূত্রধর জানান, কুমিল্লা অফিস দুটি বাজারকে ‘জরুরি অবস্থা’ ঘোষণা করার পর আমরা ডিপিএম পদ্ধতিতে ঠিকাদারদের ডেকে কাজ করার কথা বললে এখনো কেউ কাজ দুটি করতে আসছেন না।
