দক্ষিণ এশিয়ার সাম্প্রতিক বন্যায় প্রায় ৬০ লাখ মানুষ ঝুঁকির মধ্যে বাস করছেন। ভারী বর্ষণে এরই মধ্যে আরও কয়েক লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। ভারতের একাংশ বন্যার পানিতে প্লাবিত। আর অপর একাংশে চলছে দীর্ঘমেয়াদে খরা পরিস্থিতি। দেশটিতে এবারের বন্যায় ইতিমধ্যেই ১৩৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পানির সংকট সমাধানে ভারতের হাতে আর মাত্র পাঁচ বছর সময় আছে। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে যাওয়ায় দেশটির এক কোটির অধিক মানুষ পানিহীন অবস্থায় রয়েছেন। আফগানিস্তানের দীর্ঘমেয়াদি খরায় ঐতিহ্যবাহী কৃষি এলাকাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বিপুলসংখ্যক মানুষকে অর্ধাহারে-অনাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে। আর বাংলাদেশে ভারী বর্ষণে রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়া ছাড়াও মানুষের মৃত্যু ঘটছে। জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় এশিয়ার উন্নয়নশীল দেশগুলোর বিভিন্ন অংশে মানুষের মৃত্যু ঘটছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইউরোপ যে শরণার্থী সমস্যা প্রত্যক্ষ করছে, দক্ষিণ এশিয়ায় তা আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার কৃষি পুরোপুরি বর্ষা মৌসুমের ওপর নির্ভরশীল। বর্ষা দেরিতে হলে বিস্তৃত বন্যা পরিস্থিতি ও পানি স্বল্পতার সৃষ্টি করে। ১৯ শতক থেকে বিজ্ঞানীরা ও সরকারি সংস্থাগুলো বর্ষা মৌসুমের আগমন প্রশ্নে প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। এই প্রকল্পের ওপর প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ২০০ কোটি মানুষের বাঁচামরা নির্ভরশীল। তবে জলবায়ু পরিবর্তনের বাস্তবতায় এই প্রকল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। যদিও জার্নাল ন্যাচারের গবেষণা মতে, ভারত সাগরে উষ্ণতা বৃদ্ধি, এল নিনোর প্রভাব বৃদ্ধি, বায়ুদূষণ, ভূমির অবস্থান, খরা পরিস্থিতির কারণে কখন বর্ষাকাল আসবে এমন সম্ভাবনা যাচাই দিন দিন কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
নির্মম হলেও সত্যি, আগের তুলনায় এখন বর্ষার পরিমাণ কমেছে। বেড়েছে খরা সময়কাল। পরিবর্তিত বাস্তবতায় বর্ষা হলে অল্পতেই বন্যা ও ভূমিধসের মতো ঘটনা ঘটছে, যা ক্রমশ বাড়ছে। গবেষকরা বলেন, ১৯৫০ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ভারতের মধ্যাঞ্চলে অতিরিক্ত বর্ষণের কারণে ওই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রায় ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এখন ওই অঞ্চলে বর্ষাহীন নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
