বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্শি বলেছেন, রপ্তানি বাড়াতে নতুন বাজারে প্রবেশের চেষ্টা চলছে। অনেক বাধা পেরিয়ে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্প আজ বিশে^র দ্বিতীয় বৃহত্তম। মোট রপ্তানির প্রায় ৮৪ শতাংশ আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। অনেক দেশে আমরা এ পণ্য রপ্তানি করতে পারি না। মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আমাদের পণ্য অন্য দেশ রপ্তানি করে লাভবান হচ্ছে। সে সব বাজারে আমাদের প্রবেশ করতে হবে। চেষ্টা চলছে, আশা করি আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে ব্রাজিল-রাশিয়ার মতো বড় রপ্তানি বাজারগুলোতে প্রবেশ করতে পারব। আমরা উপযুক্ত মূল্য আদায় করতে পারছি না। এজন্য আমাদের দর কষাকষির সক্ষমতা বাড়াতে ও উৎপাদন ব্যয় কমানোর চেষ্টা করতে হবে।
রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে তিনদিনব্যাপী ‘সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট অব অ্যাপারেল ইন্ডাস্ট্রি : প্রোসপেক্ট অ্যান্ড অবসটেকলস’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে গতকাল এসব কথা বলেন টিপু মুন্শি।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, শিল্প প্রতিষ্ঠানে জ¦ালানির ব্যবহার কমিয়ে সোলার ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশ^মানের সোলার প্যানেল এখন বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি হচ্ছে। রিসাইক্লিং করে পানির ব্যবহার অনেক কমানো সম্ভব। এতে পণ্য উৎপাদন খরচ কমে আসবে। বিশ^বাজারে প্রতিযোগিতায় আমরা অনেক এগিয়ে যেতে পারব। এ জন্য প্রয়োজন পণ্যের মূল্য নির্ধারণে দর কষাকষিতে দক্ষতা প্রদর্শন। ক্রেতারা সবসময় চাইবে কম দামে পণ্য কিনতে। এ ক্ষেত্রে দক্ষতার বিকল্প নেই।
তিনি বলেন, আমাদের দেশের পণ্যের মান ভালো, বিশ^বাজারে চাহিদাও রয়েছে প্রচুর। ব্রাজিল ও রাশিয়ার মতো বড় বাজারগুলোতে প্রবেশ করতে পারলে রপ্তানি অনেক বাড়বে। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৈরি পোশাকের প্রতি আন্তরিক। তিনি সার্বিক সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন। শ্রমিকদের মজুরি বাড়ানোর ক্ষেত্রে তার অবদান অনেক।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এফবিসিসিআইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট ও অনআস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন, ইনোওয়েল ইঞ্জিনিয়ারিং ইন্টারন্যাশনালের প্রতিষ্ঠাতা ফার্নো সুসাই, বিকেএমই’র সাবেক প্রেসিডেন্ট ও প্লামি ফ্যাশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফজলুল হক, বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব টেক্সটাইলসের অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন এবং অ্যাপলস গ্লোবালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বিরেন্দ্র গয়াল।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন।
