জয়ন্তিকার বগি লাইনচ্যুত, ১০ যাত্রী আহত

আপডেট : ২০ জুলাই ২০১৯, ১২:১৮ এএম

সিলেট-আখাউড়া রেল সেকশনের মৌলভীবাজার জেলার কুলাউড়ায় জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের বগি লাইনচ্যুত হয়ে ১০ যাত্রী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় সিলেটের সঙ্গে সারা দেশের রেল যোগাযোগ প্রায় ২ ঘণ্টা বিচ্ছিন্ন ছিল। ফলে বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়া ট্রেনযাত্রীরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহান।

শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে কুলাউড়া জংশন স্টেশনের অদূরে সিলেট থেকে ঢাকাগামী জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়। উদ্ধারকাজ ও মেরামত শেষে বেলা ২টার দিকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কুলাউড়া স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত স্টেশন মাস্টার মুহিবুর রহমান জানান, জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস কুলাউড়া স্টেশনে প্রবেশের প্রায় ৩০০ মিটার আগে আউটার সিগন্যাল এলাকায় ট্রেনের মাঝখানের একটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে যায়। কিন্তু চালক ট্রেন না থামিয়ে ধীর গতিতে ট্রেনটিকে স্টেশন পর্যন্ত নিয়ে আসেন। এতে ট্রেনে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি ও শব্দের সৃষ্টি হয়। এ সময় কয়েক যাত্রী লাফিয়ে নামতে গিয়ে আহত হন। আরও কয়েকজন দৌড়াদৌড়ি করে কিছুটা আহত হয়েছেন। এ ছাড়া লাইনচ্যুত বগিকে রেল লাইনের স্লিপারের ওপর দিয়ে নিয়ে আসায় প্রায় ৩শ মিটার লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে লাইনচ্যুত বগিটি বাদ দিয়ে বেলা ২টার দিকে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস কুলাউড়া থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

মুহিবুর রহমান আরও জানান, দুর্ঘটনার কারণে ঢাকা থেকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস লংলা স্টেশনে, চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী জালালাবাদ এক্সপ্রেস ভানুগাছ স্টেশনে ও ঢাকা থেকে সিলেটগামী সুরমা মেইল শ্রীমঙ্গল স্টেশনে আটকা পড়ে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বগি লাইনচ্যুত হওয়ার পর দৌড়ঝাঁপ করে ও লাফিয়ে নামতে গিয়ে ট্রেনের যাত্রী আসমা বেগম (৪০), নাসিমা বেগম (২০), সুমন মিয়া (২৫), তাহমিনা বেগমসহ (৬০) আরও ১০-১২ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজন কুলাউড়া উপজেলা হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন এবং গুরুতর আহত তাহমিনা বেগমকে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে।    

উল্লেখ্য গত ২৩ জুন মধ্যরাতে কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল স্টেশনের অদূরে বড়ছড়া রেলসেতুতে বগি লাইনচ্যুত হয়ে খালে পড়ে ৪ যাত্রী নিহত ও শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত