মেয়ের বয়স এখন সাত বছর। সেদিন বসলাম মেয়েকে নিয়ে। কথা বলব unwanted touch নিয়ে। সত্যি বলতে খুব অস্বস্তি হচ্ছিল আমার...
ছেলে ঘুমিয়ে গেলে নিজেকে মানসিকভাবে গুছিয়ে মেয়েকে নিয়ে বসলাম।ওর সঙ্গে একান্তে কথা বলতে চেয়েছিলাম।
মেয়ের সঙ্গে আমার কথোপকথন শেয়ার করছি তোমাদের সঙ্গে...খুব সহজ ছিল না এই আলোচনা চালিয়ে যাওয়া! তবুও তোমাদের জানা উচিৎ এসব....আমার ফ্রেন্ডলিস্টের ছেলেবন্ধুদেরও জানা জরুরী আশা করি। বিশেষ করে যারা বাবা হয়েছ।
আমি: গুনগুন আমি যদি তোমাকে কোলে নিই তোমার কেমন লাগে আম্মু?
মেয়ে: কেন মা? ভালোলাগে অনেক। এটা কেন জিজ্ঞেস করছ?
আমি: এমনি আম্মু। আচ্ছা বল তো, বাবা তোমাকে কোলে নিলে কেমন লাগে তোমার?
মেয়ে: উফ কি যে বলো না তুমি, ভালোলাগে তো অনেক।খেলতে যাই মা এবার?
আমি: হ্যাঁ যাবে তো। শোনো না আম্মু আরেকটা কথা বলি। আমি বা বাবা ছাড়া, নানা ভাই, আম্মা (নানু), এমন কেউ ছাড়া অন্য কেউ যদি তোমাকে কোলে নেয় বা গায়ে টাচ করে তাহলে খেয়াল করে দেখো, তোমার ভালো লাগবে না, মনটা একটু কেমন কেমন করবে দেখো।
মেয়ে: কেন এমন লাগবে কেন? এটা আবার কেমন কথা মা? বুঝতে পারছি না তো মা।
আমি: দিশেহারা বোধ করছিলাম এ পর্যায়ে। কীভাবে বুঝাই মেয়েকে! তবুও হাল ছেড়ে দিইনি। আবার শুরু করলাম...
আমি: আম্মু শোনো, সবার আদর একই রকম থাকে না। সিক মানুষের আদরগুলাও সিক থাকে। ওরা তোমাকে ভালোবেসে আদর করবে না, উম্মাহ দিবে না। সেই সিক মানুষ যখন তোমার গায়ে হাত দেবে, আদর করতে চাইবে তখন তুমি ঠিক ঠিক তাদের অসুখটা ধরে ফেলতে পারবে। আল্লাহ তোমার শরীরে একটা সুইচ অ্যাড করে দিয়েছেন এটা ধরার জন্য। আগেই পারবে না তাই ধরতে, যখনই সিক আর নোংরা কেউ তোমাকে তাদের সেই নোংরা আদর করতে চাইবে ঠিক তখনি তোমার শরীরে ফিট করা সেই সুইচটা অ্যালার্মের মতো সাউন্ড করবে বা শেক করবে। তুমি টের পেয়ে যাবে।
মেয়ে: ছি মা এসব নোংরা মানুষ কারা মা! কোথায় থাকে ওরা? কেন এমন করে মা?
আমি: আমাদের আশেপাশেই থাকে মা, সবখানে সব জায়গায় থাকে। হয়ত আমাদের রিলেটিভসদের মধ্যেই এমন কেউ আছে যারা এ টাইপ সিক। তোমার ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই আম্মু। কারণ আল্লাহ তো তোমার শরীরে একটা সুইচ দিয়েছেন তাই না?
মেয়ে: সেটা কি আমাকে প্রোটেক্ট করতে পারবে? আর ওরা কি শুধু মেয়ে বেবিদের সঙ্গেই এমন করে মা? নাকি ছেলে বেবি বা বড়দের সঙ্গেও করে?
আমি: ওরা সবার সঙ্গেই এসব করে, সারাক্ষণ ট্রাই করে, সুযোগ খুঁজে কখন কাকে নোংরা ভাবে ছুঁয়ে দেওয়া যায়।বেবিদের সঙ্গে বেশি করে কারণ ওরা ভাবে বেবিরা তো ছোট তাই ওদেরকে প্রিভেন্ট করতে পারবে না, ওরা যা বলবে তাই মেনে নেবে বেবিরা।
মেয়ে: উহু আমি তো এমন টা করব না,আমি তো ব্রেভ গার্ল।
আমি: তুমি কী করবে তখন?
মেয়ে: তোমাকে, বাবাকে বলে দেব।
আমি: হ্যাঁ, সঙ্গে সঙ্গে করে তাকে বাধা দেবে এবং মা-বাবা যে সামনে থাকুক তাকে জানাবে। মনে রাখবে, ওরা চিৎকারকে ভয় পায় খুব, এটাই ওদের শায়েস্তা করার প্রথম বুদ্ধি।
মেয়েকে চিন্তিত দেখে আবার শুরু করলাম আলোচনা..
আমি: আম্মু বল তো, আমরা আমাদের শরীরের কিছু পার্টস কেন স্পেশালি ঢেকে রাখি? তুমি কেন ফ্রকের নিচে পেন্টি পরো?
মেয়ে: ছি মা সবাই তো দেখে ফেলবে সুনুমুনুটা! লজ্জা পাবো তো তখন পেন্টি না পরলে।
আমি: হ্যাঁ আম্মু, এ জন্যই ওই বডিপার্টসগুলোকে বলে লজ্জাস্থান। কারণ ওগুলো কেউ দেখে ফেললে আমরা লজ্জা পাই। ওই সিক মানুষগুলা সবসময় এই লজ্জাস্থানই বেশি টাচ করতে চায়। দেখতে চায়। তোমাকে ব্যাথা দিতে চায়। ওরা চায় তুমিও ওদের মতো সিক হয়ে যাও।জেলাস ওরা, সবাইকে সিক বানিয়ে তাই ওরা মজা পায়।
মেয়ে: বুঝেছি মা আমি।
আমি- ok তাহলে এবার বল তো এমন করে কেউ কি কখনো হাত দিয়েছে তোমার গায়ে?
মেয়ে: হ্যা মা দিয়েছে।
হার্টবিট মিস হলো আমার কয়েকটা...সামলে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কে কখন!
মেয়ে: যখন আমি ছোট ছিলাম,ওয়া ওয়া করতাম তখন অনেকেই আমাকে কোলে নিয়েছে এবং হয়তো দিয়েছে গায়ে হাত,আমি বুঝিনি!'
লেখক: সাবেক শিক্ষার্থী, স্বাস্থ্য অর্থনীতি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়।
