জামালপুরে যমুনার পানি কিছুটা কমলেও ব্রহ্মপুত্রের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে।
পানিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ। বকশীগঞ্জে বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে মৃত্যু হয়েছে ২ জনের। এনিয়ে গত ৯ দিনের বন্যায় জামালপুরে বন্যার পানিতে ডুবে ও সাপের কামড়ে ১৮ জনের মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।
শনিবার দুপুরে জামালপুর-সরিষাবাড়ী সড়কের কালীবাড়ি এলাকায় ৫০ মিটার ভেঙে গিয়ে জামালপুরের সাথে সরিষাবাড়ী উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনার পানি কমে বিপৎসীমার ১৩০ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি বেড়ে শনিবার বিকেলে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। ধীরে ধীরে পানি ছড়িয়ে পড়ছে জেলার বেশীরভাগ এলাকায়। ৬১ টি ইউনিয়ন ও ৮ টি পৌরসভায় পনিবন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ১৩ লাখ মানুষ।
পানি ঢুকতে শুরু করেছে জামালপুর শহরের রামনগর, তেতুলিয়া, দেউড়পাড় চন্দ্রাসহ বেশ কয়েটি এলাকায়। দুর্গত এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে পানিবাহিত বিভিন্ন রোগ। দেখা দিয়েছে তীব্র ত্রাণ সংকট। বন্ধ রয়েছে ১১০৪ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, বন্যার পানিতে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৭৭২ হেক্টর পাট, ২ হাজার ৭০০ হেক্টর রোপা আমনের বীজতলা, ৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর আউস, ৪ হাজার ৪৭৬ হেক্টর শাক-সবজী, ১৯০ হেক্টর মরিচ, ১০৭ হেক্টর করলা, ৮০ হেক্টর আখ, ৩৫ হেক্টর জমির ভূট্টাসহ মোট ২৪ হাজার ২১০ হেক্টর জমির ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।
জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা নায়েব আলী জানান, বন্যায় এখন পর্যন্ত ১২ লাখ ৭৭ হাজার ৮৭০ জন মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। শনিবার দুপুরে বন্যার্তদের জন্য নতুন করে ১৩০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
