কেন আমার মেয়ে আজ সাক্ষী থেকে আসামি? আমার দুঃখ হয় একটি কুচক্রী মহলের এই কুকর্ম আড়াল করতে আমার মেয়েকে ফাঁসানো হচ্ছে । আমি সর্বস্তরের মানুষের কাছে এটাই নিবেদন করব এই খুনি চক্র বাঁচানোর জন্য যে পাঁয়তারা চলতে আছে সেখানে আমি একা লড়াই করে পারব না। আমি চাই আপনারা আমার পাশে থেকে আমার মেয়ের ন্যায় বিচার নিশ্চিতে সহায়তা করুন।
রবিবার মিন্নির জামিন আবেদন নামঞ্জুর হলে বরগুনা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে একথা বলেন মিন্নির বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন।
এ সময় তিনি বলেন, আমরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তার জামিন আবেদন করেছি। কিন্তু জামিন হয় নাই, বিচারক নামঞ্জুর করেছে। এতে আমাদের ক্ষোভ নেই, আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আমার দুঃখ হয় কেন একটা প্রত্যক্ষদর্শী, যে স্বামী হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছে সে আজ আসামি।
আদালতে জামিন না পাওয়া প্রসঙ্গে মোজাম্মেল হোসেন বলেন, আমার মনে হয় আজ আমরা জামিন পাইনি তার পেছনেও প্রভাবশালী মহলের হাত রয়েছে। যারা নয়ন বন্ড তৈরি করছে তারাই আমার মেয়ের পেছনে লেগেছে।
কারা এই মহল জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি সত্য কথা বললে এই শহরে টিকতে পারব না।
স্থানীয় সংসদ সদস্য ও তার ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন যে এই সকল কর্মকাণ্ড তাদের ইশারায় হচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে মিন্নির বাবা বলেন, এমপি পুত্র সুনাম সরাসরি প্রেস ব্রিফিং ও মানববন্ধন করে আমাদের বিরোধিতা করেছে। তাই আমি সন্তানের শোকে দিশেহারা হয়ে এসব কথা বলেছি। কারণ তিনি (এমপি) আমাদের অভিভাবক সে যদি এই ঘটনায় হস্তক্ষেপ করতো তাহলে আমরা এইভাবে বিপদগ্রস্ত হতাম না।
মোয়াজ্জেম হোসেন আরো বলেন, আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রতি অনুরোধ জানাই আমার মেয়েকে বাঁচান। আমার মেয়ে নির্দোষ সে এই হত্যাকাণ্ডের সাথে যুক্ত নয় তারপরও তাকে ফাঁসানো হচ্ছে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে। খুনিদের আড়াল করতেই আমার মেয়ের প্রতি এই অবিচার।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে রিফাত শরীফকে। তার স্ত্রী আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। গুরুতর আহত রিফাতকে ওইদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকেলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় রিফাতের বাবা দুলাল শরীফ বাদী হয়ে ১২ জনের নাম উল্লেখ ও পাঁচ-ছয় জনকে অজ্ঞাত আসামি করে বরগুনা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় পুলিশ এ পর্যন্ত ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গত ২ জুলাই ভোরে মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ড পুলিশের সঙ্গে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হয়। পরে মিন্নিকেও রিফাত হত্যা মামলার আসামি করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। মিন্নিসহ এ পর্যন্ত ১৪ আসামি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
