সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলায় বন্যার পানি কমতে শুরু করলেও গবাদিপশু নিয়ে এলাকাবাসীর দুর্ভোগ কমেনি। গবাদিপশু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নেওয়া কয়েক শ মানুষ খোলা আকাশের নিচে অথবা পলিথিন টাঙিয়ে বাস করছে।
১ সপ্তাহ ধরে কৈজুরি ইউনিয়নের জয়পুরা থেকে জগতলা পর্যন্ত প্রায় ৪ কিলোমিটার নতুন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে গবাদিপশু নিয়ে আশ্রয় নেওয়া মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাদের ভাগ্যে এখন পর্যন্ত জোটেনি কোনো ত্রাণসহায়তা। শত শত মানুষ তাদের শিশুসন্তানের পাশাপাশি গবাদিপশু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছে। সাধ্যমতো কেউ পলিথিন টাঙিয়ে, কেউ টিনের চালা বানিয়ে, কেউ খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবন যাপন করছে। গতকাল সোমবার দুপুরে কৈজুরি ইউনিয়নের জগতলা এলাকার নতুন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে এমন চিত্র।
এ ব্যাপারে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাজমুল হুসেইন খান জানান, বাঁধে আশ্রিতদের জন্য ২ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অথচ এলাকাবাসী বলছে, এ পর্যন্ত কোনো ত্রাণসহায়তা তো দূরে থাক প্রশাসনের কোনো কর্তাব্যক্তিই তাদের খোঁজখবর নেয়নি।
জগতলা বাঁধে আশ্রয় নেওয়া ভোলা বেপারির ভাই সেলিম হোসেন (২০) বলেন, বন্যায় বাড়িঘরে পানি ওঠায় নিরুপায় হয়ে এক সপ্তাহ ধরে ১২টি গরু নিয়ে নতুন বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি। একইভাবে ওই এলাকার নাসির উদ্দিন (৬৫) ৩টি গরু ও ৩টি ছাগল, আলাউদ্দিন (৫৪) ৩টি গরু, রোজিনা খাতুন (২৪) ৩টি গরু, হাঁস-মুরাগ ও ২টি ছাগল, জালাল উদ্দিন (৬০) ২টি গরু, আলামিন হোসেন (৩০) ৪টি, নজির মোল্লা (৫৫) ৩টি ও আবু বক্কার (৫০) ৪টি গরু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের ভাগ্যে জোটেনি কোনো ত্রাণসহায়তা।
বাঁধ ঘুরে দেখা যায়, বন্যাদুর্গত হতদরিদ্রদের পাশাপাশি ধনী গরু ব্যবসায়ীরাও একেক জন ১০টি থেকে শুরু করে ২০-২৫টি গরু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। এসব গরু আসন্ন কোরবানির ঈদে ঢাকা ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন হাটে নিয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করছেন তারা। তাদের মধ্যে আলমাস আলী ও মোজাম্মেল হক জানান, পানির মধ্যে গরুগুলোকে রাখার জায়গা না পেয়ে বাধ্য হয়ে বাঁধে এসে আশ্রয় নিয়েছেন। ভোলা বেপারি জানান, বন্যার কারণে এরই মধ্যে পানির দরে ১২টি গরু বিক্রি করে দিয়েছেন। এখনো ২২টি গরু রয়েছে। তার মধ্যে ১২টি গরু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন। রহম আলী জানান, তিনি ১৪টি গরু নিয়ে বাঁধে আশ্রয় নিয়েছেন।
জামিরতা গ্রামের জহুরুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যার কারণে ৮টি গরু মাত্র সাড়ে ২৬ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। কোরবানির হাটে নিয়ে এগুলো বিক্রি করলে দাম পেতাম কমপক্ষে ৪০ লাখ টাকা।’
কৈজুরি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম জানান, বন্যাদুর্গতদের জন্য মাত্র ৫ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ পাওয়া গেছে। চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। এর মধ্যে আগে যমুনা নদীর চরের বানভাসিদের মধ্যে বিতরণ শুরু করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাঁধে আশ্রিতদের ত্রাণসহায়তা দেওয়া হবে।
