জেরুজালেম শহরের ঠিক বাইরে প্রস্তর যুগের একটি বসতির সন্ধান পাওয়া গেছে। নৃ-তাত্ত্বিকদের ধারণা, ওই বসতিতে তিন হাজার মানুষের বসবাস ছিল। প্রস্তর যুগ হিসেবে ওই বসতিকে একটি বড় শহর বলা চলে। প্রাচীন এই শহরটি খনন করে গহনা, তীরের ফলাসহ বিভিন্ন উপকরণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিএনএন।
নৃ-তাত্ত্বিকদের মতে, প্রাচীন এই বসতি কমপক্ষে নয় হাজার বছরের পুরনো। নতুন এই প্রাপ্তির ফলে মানুষের বসতি গড়ার ইতিহাস নতুন করে ভাবতে হবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা। কারণ প্রাপ্ত বসতির গড়ন দেখে বোঝা যাচ্ছে, ওই সময়ের মানুষের মধ্যে অত্যাধুনিক নগর পরিকল্পনা ও কৃষি কাজের অভিজ্ঞতা ছিল। এমন অনুসন্ধানের ফলে জেরুজালেমের ওই অঞ্চলের ইতিহাস সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে হবে নৃ-তাত্ত্বিকদের।
ইসরায়েলের মোতজা শহরের কাছাকাছি ওই বসতির সন্ধান পাওয়া যায়। অনেক আগে থেকেই ওই অঞ্চল নৃ-তাত্ত্বিকদের আগ্রহের বিষয় ছিল। খনন পরিচালনাকারী সংস্থার প্রধান জ্যাকব ভার্দি বলেন, পুরো বসতি ৩০ থেকে ৪০ হেক্টর এলাকায় বিস্তৃত। ২০১৫ সালে প্রথম ওই অঞ্চলের ওপর জরিপ করা হয়েছিল।
জরিপ করার সময়ই নৃ-তাত্ত্বিকরা ভূগর্ভে অনেক ঘর-বাড়ির সন্ধান পান। এমনকি কিছু ব্যক্তিগত ঘরের সন্ধানও পান তারা। এই ব্যক্তিগত ঘর থাকা বলে দেয়, ওই সময়ই মানুষের মধ্যে ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য শুরু হয়ে গিয়েছিল। এছাড়া শহরের জনগণের জন্য আলাদা গোরস্তান ও পূজা দেওয়ার জায়গা ছিল।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বাড়িগুলো নির্মাণে প্লাস্টার ব্যবহার করা হয়েছিল। আর দুই বাড়ির মধ্যবর্তী জায়গায় হাঁটার গলিপথ ছিল। এ থেকে বোঝা যায়, তৎকালীন মানুষের মধ্যে বসতি নির্মাণসংক্রান্ত জ্ঞান বেশ ভালোভাবেই ছিল। আর খননে পাওয়া শৌচাগারের আকৃতি দেখে বোঝা যায়, তৎকালীন মানুষেরা মানুষের শুচিতা নিয়ে বেশ সচেতন ছিল। শহরে প্রাপ্ত কয়েক হাজার তীরের ফলা বলছে, তখনো মানুষ পশু শিকার করে ক্ষুধা নিবৃত্ত করত। মাটি খুঁড়ে বিভিন্ন প্রাণীর হাড় ও ভেড়ার খোয়াড় পাওয়া গেছে।
বসতির মানুষদের মধ্যে শিল্প সচেতনতাও ছিল, যা বসতি থেকে প্রাপ্ত বিভিন্ন গহনা ও অলংকার থেকে বোঝা যায়। তারা নিয়মিত গহনা তৈরি করত। হাড়ের ব্রেসলেট, মেডালিয়ন ও মুরগির পাখা দিয়ে তৈরি উপকরণও পাওয়া গেছে।
