একটা সময় শেলফ বা তাক বলতে শুধু বুক শেলফ এবং রান্নাঘরের মিট শেলফই বোঝানো হতো। যার একটা থাকত বসার ঘরে বা পড়ার ঘরে, আর অন্যটা রান্নাঘরে। কিন্তু এখন দিন বদলেছে। গৃহসজ্জা এখন বসার ঘরেই সীমাবদ্ধ নেই। বাথরুম ও রান্নাঘরের সাজেও এখন সবাই সমান মনোযোগী। তেমনি স্বল্প পরিসরে কী করে নান্দনিকভাবে সাজানো যায় তাই নিয়ে সচেতন থাকে। প্রতিটি ঘরে চাহিদা অনুযায়ী একটি শেলফ থাকলে সবকিছু অনেক সহজেই সাজিয়ে গুছিয়ে রাখা যায়। চাহিদা অনুযায়ী একটি শেলফ প্রয়োজন পূরণের পাশাপাশি আপনার ঘরেরও শ্রীবৃদ্ধি ঘটাবে।
বুক শেলফ : কেমন বুক শেলফ বানাবেন বা কিনবেন ভাবছেন। আপনার বুক শেলফটি প্রয়োজন মেটাবে, সেই সঙ্গে ঘরের সৌন্দর্যও বাড়াবে। চাইলে খুব সহজেই অল্প দামে নান্দনিক বুক শেলফ বাজার থেকে কিনে নিতে পারেন। বাজারে ছোট্ট শেলফের পাশাপাশি দেয়ালজুড়ে দাঁড়িয়ে থাকা বুক শেলফও পাওয়া যায়। দৈর্ঘ্য এবং প্রস্থ দুই ক্ষেত্রেই বুক শেলফের বিভিন্নতা রয়েছে। পাবেন জিগজ্যাগ আকারের বাহারি ডিজাইন কিংবা গাছ
আকৃতির নান্দনিক বুক শেলফ। চাইলে অর্ডার দিয়ে নিজের পছন্দমতো বানিয়েও নিতে পারবেন। মাথায় রাখতে হবে, ডিজাইন যত বেশি হবে বুক শেলফে বই তত কম ধরবে। বেশি বই রাখতে পাশাপাশি কিংবা খাড়া বই রাখার সেই সনাতন পদ্ধতির তুলনা হয় না। বাজারে মেলামাইন প্লাস্টিক এবং লেমিনেটেড বোর্ডের বুক শেলফই বেশি পাওয়া যায়। এগুলোর দামও কম। ওক কাঠের তৈরি তুলনামূলক একটু বেশি দামের পাশাপাশি এমডিএফ প্রযুক্তির মালয়েশিয়ান বাহারি বুক শেলফও পাবেন।
কিচেন শেলফ : রান্নাঘরের তৈজসপত্রের যেমন শেষ নেই, তেমনি রান্নার উপকরণ সাজিয়ে গুছিয়ে হাতের কাছে রান্নার জন্য শেলফ প্রয়োজন হয়। এই শেলফ কেবিনেট আকারে যেমন হতে পারে, তেমনি খোলাও করতে পারেন। প্রয়োজনে গ্লাসের পাল্লা ব্যবহার করতে পারেন। রান্নাঘরে কোনো কর্নার থাকলে সেখানেও দেয়াল লাগোয়া শেলফ বানাতে পারেন। বোর্ড কিংবা কাঠের শেলফই এই ঘরের জন্য উপযুক্ত। নকশার ক্ষেত্রেও মনোযোগী হতে হবে। বেশি নকশা করা যাবে না। কারণ তেলচিটে হলে ময়লা বেশি হবে। তাই সহজে পরিস্কার করা যায় এমন নকশা বেছে নিতে হবে।
বাথরুম শেলফ : বাথরুম শেলফ আকারে ছোট হবে। এছাড়া কাঠের পরিবর্তে বোর্ড ও প্লাস্টিক হলে ভালো হবে। কারণ কাঠ পানির সংস্পর্শে নষ্ট হতে পারে। দেয়ালের সঙ্গে লাগানো থাকবে, যাতে স্যাঁতসেঁতে ভাব না হয়। ত্রিভূজ আকৃতির হলে সহজেই বাথরুমের কর্নারের সঙ্গে সুন্দরভাবে সেট করা যাবে। বাথরুমের ছোট ছোট অ্যাক্সেসরিজ সহজে রাখা যাবে। চাইলে পাল্লাও দিতে পারেন।
ডাইনিং শেলফ : ডাইনিং শেলফ অনেক ধরনের হতে পারে। বাজারে ছোট, মাঝারি কিংবা বড় তিন ধরনের শেলফই আছে। দেয়ালে যেমন লাগিয়ে রাখা যাবে তেমনি স্ট্যান্ডেও রাখতে পারবেন। ভারী এবং হালকা দুই ধরনের হতে পারে। দেয়ালে হলে ছোটখাটো শোপিস, গাছ, মোমদানি এবং নানা ধরনের কাপ কিংবা কফি মগ রাখতে পারেন। আর স্ট্যান্ড শেলফ হলে কাচের বাসনসহ ডাইনিং রুমের প্রয়োজনীয় সবকিছুই রাখা যাবে।
দরদাম : ব্র্যান্ড ও ডিজাইন অনুযায়ী দামের বিভিন্ন রকম পার্থক্য রয়েছে। নতুনত্ব আর পছন্দসই শেলফ বানাতে খারচ বেশি হবে। বহুল প্রচলিত মেলামাইন প্লাস্টিকের তৈরি শেলফ কিনতে আপনার খরচ পড়বে ৪০০০-৬৫০০ টাকা পর্যন্ত। ওক কাঠের তৈরি শেলফ পাবেন ৬০০০-৯০০০ টাকার মধ্যে। ব্র্যান্ডের শেলফ কিনতে গুনতে হবে ৭০০০-১১৫০০ টাকা। আখতার, ব্রাদার্স, হাতিল ও অটবির ফার্নিচারের শোরুমে নানা ধরনের শেলফ পাবেন। কিছু কিছু ব্র্যান্ডের দোকানে ক্রেতার সুবিধার কথা চিন্তা করে মাসিক কিস্তিতে মূল্য পরিশোধের ব্যবস্থা আছে। নির্দিষ্ট কিছু ব্যাংকের ক্রেডিট কার্ড থাকলে ছয় মাস থেকে বারো মাসের কিস্তিতে মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন।
কোথায় পাবেন : মিরপুরে বেগম রোকেয়া সরণির ফার্নিচার মার্কেট এবং পান্থপথে ফার্নিচারের প্রায় সব দোকানেই শেলফ পাওয়া যাবে। এছাড়া দেশজুড়ে ফার্নিচার ব্র্যান্ডগুলোর শোরুমের প্রত্যেকটিতেই শেলফ পাবেন আপনি। চাইলে ইন্টেরিয়র ডিজাইনার দিয়ে পছন্দমতো বানিয়ে নিতে পারেন।
ছবি : এস্থেটিক ইন্টেরিয়র
