রাজধানীর উত্তর বাড্ডায় তাসলিমা বেগম রেনুকে পিটিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামি ইব্রাহিম হোসেন ওরফে হৃদয় হোসেন মোল্লা ও রিয়া খাতুন নামে এক নারী অভিভাবক আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গতকাল শুক্রবার ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) আদালতে তারা জবানবন্দি দেন। পরে আদালত তাদের কারাগারে পাঠায়। বাড্ডা থানার ওসি রফিকুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তিনি জানান, উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নারী অভিভাবক রিয়াকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তারপর ঘটনায় জড়িত থাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্য পাওয়া গেলে তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এর আগে হৃদয়কে নারায়ণগঞ্জের ভুলতা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ওসি জানান, রেনুকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় রিয়াসহ ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো। গ্রেপ্তারকৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য ও বিভিন্ন মাধ্যম থেকে সংগৃহীত ফুটেজ বিশ্লেষণ করে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত আরও একাধিক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়েছে, যাদের সবাইকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
গত বৃহস্পতিবার মুরাদ মিয়া, সোহেল রানা, মো. বিল্লাল, আসাদুল ইসলাম ও মো. রাজু নামের পাঁচজনের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। গত ২২ জুলাই মো. শাহীন, বাচ্চু মিয়া ও মো. বাপ্পির চার দিনের এবং গত ২৩ জুলাই কামাল হোসেন ও আবুল কালাম আজাদের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। ২২ জুলাই জাফর হোসেন আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত শনিবার সকালে রাজধানীর উত্তর বাড্ডা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিজের সন্তানের ভর্তির বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়েছিলেন রেনু। ওই সময় ছেলেধরা সন্দেহে তাকে পিটিয়ে হত্যা করে উপস্থিত অনেকে। এ ঘটনায় ওই রাতেই বাড্ডা থানায় অজ্ঞাত ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা করেন নিহতের ভাগ্নে সৈয়দ নাসির উদ্দিন টিটু।
