লক্ষ্মীপুরে ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নেতা গ্রেপ্তার

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ০২:৩৭ এএম

লক্ষ্মীপুরে কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিত্বকারী একটি সংগঠনের ছাত্রনেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাবনা সদর উপজেলায় ভাড়া বাসায় এক নারীকে দল বেঁধে ধর্ষণে সহায়তার অভিযোগে বাড়িওয়ালাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিরা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

লক্ষ্মীপুর : জেলায় এক কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের নেতা সুদীপ্ত পালকে (২৬) গত বৃহস্পতিবার বিকেলে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠায়। এদিন দুপুরে একই সম্প্রদায়ের ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে সদর মডেল থানায় মামলাটি করেন। সুদীপ্ত লক্ষ্মীপুর পৌরসভার বাসিন্দা। তিনি লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ছাত্র ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক ধর্মবিষয়ক সম্পাদক। ছাত্রীর অভিযোগের বরাত দিয়ে লক্ষ্মীপুর মডেল থানার ওসি একেএম আজিজুর রহমান মিয়া জানান, সদর উপজেলার একটি প্রতিষ্ঠানের দ্বাদশ শ্রেণির ওই ছাত্রী ও তার পরিবার শহরের টাউন হল এলাকায় সুদীপ্ত পালদের ঘরে ২০১৬ সাল থেকে ভাড়া থাকত। পরিচয়ের সুবাদে সুদীপ্ত এবং ওই ছাত্রীর মধ্যে সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ২০১৭ সালের জানুয়ারির প্রথম দিকে শহরের মদিন উল্লাহ হাউজিংয়ের একটি বাসায় বন্ধুর জন্মদিনে ওই ছাত্রীকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে সুদীপ্ত। ওই সময় ধর্ষণের ভিডিও ধারণ করে সেটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ওই ছাত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণ করে সে। সর্বশেষ গত ৫ জুলাই শহরের একটি বাসায় তাকে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এরপর বিষয়টি পরিবারকে জানায় ছাত্রী। ছাত্রীর পরিবারের লোকজন কুমিল্লার এক যুবকের সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক করেন। বিষয়টি জানতে পেরে সুদীপ্ত মুঠোফোনে ওই ছেলেকে হুমকি দিয়ে ছাত্রীকে ধর্ষণের ভিডিও সরবরাহ করে। এতে বিয়ে ভেঙে দেয় ছেলের পরিবার। পরে গত বৃহস্পতিবার ওই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে লক্ষ্মীপুর মডেল থানায় মামলা করলে পুলিশ সুদীপ্তকে গ্রেপ্তার করে।

পাবনা : সদর উপজেলার শিবরামপুরের মহিষের ডিপো এলাকায় ভাড়া বাড়িতে দল বেঁধে ধর্ষণের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন এক নারী। তার ভাষ্য, বাড়িওয়ালার সহযোগিতায় শিবরামপুর এলাকার চার যুবক এ ঘটনা ঘটিয়েছে। গতকাল শুক্রবার ওই নারীকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাড়িওয়ালা হায়দার আলীকে আটক করেছে পুলিশ। ওই নারী জানান, দুই মাস আগে তিনি ও তার পোশাকশ্রমিক ভাই মিলে হায়দার আলীর বাড়িতে ভাড়াটিয়া হয়ে ওঠেন। গত বুধবার কাজের চাপ বেশি থাকায় তার ভাই রাতে বাড়িতে ফেরেননি। রাতের খাবার শেষে তিনি (নারী) ঘুমিয়ে পড়লে গভীর রাতে বাড়িওয়ালার সহযোগিতায় চার যুবক ঘরে ঢুকে পরের দিন পর্যন্ত তাকে ধর্ষণ করে। ওই রাতে তার ভাই বাড়িতে ফিরে ঘটনা জানতে পারেন। পাবনা সদর থানার ওসি ওবাইদুল হক জানান, নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে বাড়িওয়ালা হায়দারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। যুবকদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গতকাল ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষাও সম্পন্ন হয়েছে। পাবনা জেনারেল হাসপাতালের প্রসূতি রোগ বিশেষজ্ঞ নার্গিস সুলতানা জানান, ওই নারীকে ধর্ষণের আলামত মিলেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত