মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার পোড়াপাড়া গ্রাম থেকে স্বামী দাউদ হোসেন ও তার স্ত্রী সাহিদা খাতুনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রবিবার ময়নাতদন্তের পর মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে এক দম্পতির এমন মৃত্যু নিয়ে রয়েছে নানা তথ্য। পুলিশ বলছে, সবই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এলাকাবাসী ও স্বজনদের কাছ থেকে খবর পেয়ে গাংনী থানা পুলিশ শনিবার সন্ধ্যায় এই মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।
স্থানীয় বাসিন্দা জোৎস্না আফরোজ (৩৯) জানান, পারিবারিক অভাব ও কলহের জের ধরে এই ঘটনা ঘটতে পারে। মরদেহের নমুনা দেখে মনে হয়েছে প্রথমে স্ত্রীকে হত্যার পর স্বামী দাউদ হোসেন নিজেই আত্মহত্যা করেন।
একই এলাকার সোলাইমান সাকলাইন (৪৫) জানান, পরিবারটিতে অভাবের পাশাপাশি ছিল পরকীয়ার অভিযোগ। এ কারণেও কেউ একজন অপরজনকে খুন করে নিজেও মৃত্যুবরণ করেছেন এমনটা হতে পারে। আবার একটি এনজিও’র ঋণের টাকা শোধে ব্যর্থতার কারণেই এই দম্পতির মৃত্যু হতে পারে বলে ধারণা করছেন অন্যরা।
গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, শনিবার সন্ধ্যার আগে বৃষ্টির সময় স্থানীয় লোকজন দাউদ হোসেনের বাড়ির পেছনে একটি ডুমুর গাছে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় স্ত্রী শহিদা খাতুনের মরদের দেখতে পায়। পরে দাউদ হোসেনকে খুঁজতে লোকজন তার বাড়িতে গেলে সেখানে দাউদ হোসেনকে মৃত অবস্থায় মাটিতে লুটে পড়ে থাকতে দেখেন তারা।
লোকজন খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুইটি লাশ উদ্ধার ও সুরতহাল করেন। ময়নাতদন্তের পর মরদেহ উভয়ের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আশা এনজিও থেকে ঋণের টাকা শোধ করতে না পারা এবং সেটা নিয়ে চাপে থাকার কারণে মৃত্যুকে বেছে নিয়েছে এই দম্পতি- এমন তথ্যও পাওয়া যাচ্ছে। তবে, মৃত্যুর কারণ ও মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে তদন্ত করা হচ্ছে।
