দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের ভুল্লী নদীর উপরে জোড়া ব্রিজ নির্মাণ করা হয়েছে আড়াই বছর আগে। কিন্তু উভয় পাশের রাস্তা না থাকায় জোড়া ব্রিজটি ব্যবহার করতে পারছে না এলাকাবাসী।
খানসামা উপজেলার হোসেনপুর গ্রামের মন্ডলপাড়া থেকে আমতলী বাজার পর্যন্ত রাস্তার সংযোগ করেছে ব্রিজটি।
এছাড়াও ব্রিজের দুই দিকে রয়েছে, খলিলপাড়া, দর্জিপাড়া, মন্ডলপাড়া, ছকিপাড়া, আতাপাড়ার ও দামুশা পাড়া, আছিবদ্দিন পাড়া, সহজপুর, বেলপুকুর, আমতলী, খানসামা সদর, ভুল্লীর ডাঙ্গা।
ওই এলাকার কয়েক হাজার মানুষের দাবির প্রেক্ষিতে তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী ব্রিজটি নির্মাণ করেছিলেন।
৬৫ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০১৬ সালে ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। হোসেনপুর গ্রামের প্রায় পনেরো হাজার মানুষের যাতায়াত এই সেতুকে কেন্দ্র করে। দুর্ভাগ্যবশত ব্রিজ নির্মাণের পরেও ওই এলাকাবাসী এর সুফল আজও পায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর উভয় পাশেই রাস্তা নেই। ব্রিজের মুখে সামান্য মাটি ফেলা হলেও স্থানীয়রা বলছেন, একটু বৃষ্টি হলেই এসব মাটি সরে যায়। ফলে ব্রিজটি এক প্রকার অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে।
স্থানীয় গোলাম রব্বানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমি ব্রিজের পশ্চিম পাড়ে যাব। ব্রিজ দিয়ে গেলে দূরত্ব হয় ১০০ মিটার, সেখানে আমাকে ঘুরে যেতে হচ্ছে প্রায় তিন কিলোমিটার।’
স্থানীয় কৃষক মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘তৎকালিক সময়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে আমরা দাবি জানিয়েছিলাম ব্রিজটির। ব্রিজটি নির্মাণ হলেও সংযোগ রাস্তা না থাকার কারণে নির্মাণের পর থেকেই ব্রিজটি পড়ে আছে। আমাদের অনেকেরই জমি আছে ব্রিজের পশ্চিম পার্শ্বে। ব্রিজ দিয়ে গেলে যেখানে এক দেড়শ মিটার রাস্তা হয় সেখানে আমাদের ঘুরে যেতে হচ্ছে তিন কিলোমিটার রাস্তা।’

আমিনা বেগম বলেন, ‘আমরা সেতু পেয়েছি, কিন্তু রাস্তা পাইনি। ফলে সেতুটি আমাদের কোনো কাজে আসছে না। আমাদের সন্তানরা ব্রিজের পূর্বপাড়ে স্কুলে যায়। একটু বৃষ্টি আসলেই ভোগান্তির মধ্যে পড়তে হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে খানসামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা মো. মাহবুব-উল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্রিজের ঐ জায়গায় আমি নিজেও গিয়ে দেখে এসেছি। ব্রিজটি উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়নের আওতায় নির্মাণ করা হয়েছে। ভেড়ভেড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে কয়েকবার বলেছিলাম চাহিদা দিতে। তিনি এখনো দেননি।
তিনি আরও বলেন, আগামী সেপ্টেম্বরের দিকে ব্রিজের রাস্তার জন্য একটি প্রজেক্ট দিয়ে রাস্তাটি নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হবে।’
