দুধ নিয়ে বিপাকে খামারিরা, রাস্তায় দুধ ঢেলে প্রতিবাদ

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০১৯, ০৭:৫৬ পিএম

১৪টি কোম্পানির পাস্তুরিত তরল দুধ উৎপাদন বন্ধে হাইকোর্টের নির্দেশনায় পাবনার খামারিদের কাছ থেকে দুগ্ধ সংগ্রহ বন্ধ করে দিয়েছে কোম্পানিগুলো। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন পাবনা ও সিরাজগঞ্জের গোখামারিরা।

সোমবার সকাল থেকে দুধ বিক্রি করতে না পেরে ভাঙ্গুড়া বাজারে প্রায় চারশ লিটার দুধ রাস্তায় ঢেলে প্রতিবাদ করেছেন তারা।

বিক্ষুব্ধ খামারিরা জানান, পাবনার ভাঙ্গুড়া, ফরিদপুর, বেড়া ও সাঁথিয়া, সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর, উল্লাপাড়াসহ আশেপাশের উপজেলার ১৫ হাজার দুগ্ধ খামার থেকে প্রতিদিন আড়াই লাখ লিটার দুধ উৎপাদন হয়। যা চারটি কোম্পানিতে সরবরাহ হয়। হাইকোর্টের নির্দেশনায় এসব কোম্পানির উৎপাদন বন্ধের সিদ্ধান্তে দুগ্ধ সংগ্রহ বন্ধ থাকায় ১০ থেকে ১২ টাকা দরে বিক্রি করেও মিলছে না ক্রেতা। বিভিন্ন ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা এসব দুগ্ধ খামারিরা পড়েছেন চরম দুশ্চিন্তায়। ক্ষুদ্র খামারিদের উৎপাদিত দুধ বিক্রিতে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করেছেন তারা।

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌর মেয়র ও দুগ্ধ ব্যবসায়ী গোলাম হাসনায়েন রাসেল জানান, ভাঙ্গুড়া ও আশপাশের এলাকা থেকে রাষ্ট্রায়ত্ত মিল্কভিটা ছাড়াও প্রাণ, আকিজ ও ব্রাক ডেইরী অর্ধশতাধিক সংগ্রহকেন্দ্রে দুধ সংগ্রহ করে। প্রতিদিন কেবল ভাঙ্গুড়াতেই প্রায় ষাট হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়।

কিন্তু, মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশনার পর কোন কোম্পানিই আর খামারিদের নিকট থেকে দুধ নিচ্ছে না । মিষ্টির দোকান, বেকারিসহ খুচরা বাজারে দশ টাকা লিটার দরেও দুধ বিক্রি করা যাচ্ছে না। এই অবস্থা কয়েকদিন চললে এ অঞ্চলের দুগ্ধশিল্প ধ্বংস হয়ে যাবে।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামের গোখামারী হারুন অর রশিদ জানান, ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তিনি আটটি গরু নিয়ে খামার করেছেন। গত দুই মাস ধরে ক্রমাগত লোকসানে দুটি গরু বিক্রি করে দিতে বাধ্য হয়েছেন। সোমবার সকাল থেকে প্রায় ত্রিশ লিটার দুধ নিয়ে বিভিন্ন স্থানে ধরনা দিয়েও বিক্রি করতে পারেননি। ক্ষোভে দুঃখে দুপুরে ভাঙ্গুড়া বাজারে সব দুধ রাস্তায় ঢেলে দিয়েছেন।

একই গ্রামের গো খামারী আবু সাইদ জানান, প্রতি কেজি খইলের দাম সর্বনিম্ন ৫০ টাকা। এখন পাঁচ লিটার দুধ বিক্রি করেও এক কেজি খইল কেনা যাচ্ছে না।

মিল্কভিটার ভাঙ্গুড়া উপজেলার শরৎনগর দুগ্ধ শীতলীকরণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. আশরাফ আলী জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে সোমবার থেকে পাবনা ও সিরাজগঞ্জের সকল কেন্দ্রে দুধ সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত কোন খামারীর দুধ কেনা হবে না বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

পাবনা জেলা প্রশাসক কবির মাহমুদ জানান, দুগ্ধ খামারিদের আকস্মিক সংকটের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। সরকার তাদের প্রতি সহানুভূতিশীল। প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তাদের সাথে নিয়ে এ সংকট মোকাবেলায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত