জেলার পথে পথে এখন উজ্জ্বল বেগুনি রংছড়ানো একটি ফুলের মেলা বসেছে। মহাসড়ক, মেঠোপথসহ ঝোপঝাড়ে সবখানেই চোখে পড়ছে এর শোভা। ঘ্রাণ নেই, ফুল ও পাতার সৌন্দর্যেই এর অনন্যতা। ফুলটির নাম দাঁতরাঙা। স্থানীয়ভাবে এটি পরিচিত ‘ফুটকি’ নামে। কোথাও বলা হয় ‘লুটকি’। বছরজুড়েই চমৎকার বেগুনি ফুলে সরু শাখাগুলো ভরে থাকে। ফুলে পাঁচটি পাপড়ি, মাঝখানে হলুদ রঙের পুংকেশরের গুচ্ছ। পথের ধারে, বনে-পাহাড়ে প্রাকৃতিকভাবেই গাছ জন্মে। বিশেষ করে সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় যত্রতত্র চোখে পড়ে। গাজীপুর এবং শালবন অঞ্চলেও পাওয়া যায়। এ ফুল টি (চা) ইনডিকেটর হিসেবেও পরিচিত। অর্থাৎ যে মাটিতে এই ফুলের গাছ জন্মে সে এলাকার মাটি চা চাষের উপযোগী। ফুল ঝরে পড়লে সুদৃশ্য ফল হয়।
এর ফল খেলে জিহ্বা ও দাঁত রঙিন হয় বলে নাম ‘দাঁতরাঙা’ নাম হতে পারে। এর ফুল ও পাতার রয়েছে নানা ঔষুধিগুণ। বাংলাদেশ ও ভারতের নিজস্ব ফুল হলেও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অনেকে দেশেই সহজলভ্য।
যেখানে সেখানে জন্মে বলে ফুলটির তেমন কদর নেই। পঞ্চগড়ে গ্রামীণ নারীরা এর গাছ কেটে শুকিয়ে রান্নার জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করে। পঞ্চগড় এমআর সরকারি কলেজের উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মোজাম্মেল হক বলেন, প্রায় সারা বছরই সড়কের ধারে অনিন্দ্য সুন্দর ফুলটির দেখা মেলে।
